Published : 16 Feb 2023, 11:57 AM
গণ অর্থায়নে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সাঁতাও’ প্রেক্ষাগৃহে তেমন একটা না চললেও ‘বিকল্প’ প্রদর্শনীতে দর্শকদের মাঝে বিপুল সাড়া ফেলেছে বলে জানিয়েছেন এর নির্মাতা; তাই সিনেমা হলে প্রদর্শনী শেষে জেলায় জেলায় বিকল্প প্রদর্শনীর পথেই হাঁটছে সিনেমাটি।
তাছাড়া হলের চেয়ে ‘বিকল্প প্রদর্শনী’ বেশি লাভজনক বলে মন্তব্য করেছেন ‘সাঁতাও’ নির্মাতা খন্দকার সুমন।
উজানের বাঁধে মরুভূমিতে রূপ নেওয়া ভাটি অঞ্চলের কৃষকের হাত-পা বাঁধা প্রকৃতি আর এলাকার প্রভাবশালীদের কাছে। সেইসব কৃষকদের যাপিত জীবনের যন্ত্রণা আর সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘সাঁতাও’।
সিনেমাটি জানুয়ারি মাসে জিতে নিয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ প্যানোরমা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার। ৯৭ মিনিটের এই সিনেমাটি গত ২৭ জানুয়ারি পাঁচটি হলে মুক্তি পায়।
নির্মাতা খন্দকার সুমন গ্লিটজকে বলেন, “আমার ছবিটি মাত্র দুই সপ্তাহ হলে চলেছে। কোনো কোনো হল প্রথম সপ্তাহেই নামিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা বিকল্প পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনী করছি। এতে দর্শক দারুণ সাড়া দিয়েছে। আমরা অভিভূত।”
জানুয়ারিতে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাঁতাও’ দর্শকপ্রিয় হয় জানিয়ে নির্মাতা বলেন, “উৎসবে সাঁতাওয়ের মোট দুটি প্রদর্শনী হয়। প্রথমদিন প্রায় তিন হাজার দর্শক হাজির হয় সাঁতাও দেখার জন্য। হলের ধারণ ক্ষমতার বাইরেও অনেক দর্শক মেঝেতে বসে, অনেকে দাঁড়িয়ে পুরো ছবিটি দেখেছেন। বাকিরা ফিরে গেছেন।“
বিকল্প প্রদর্শনী কী?
‘বিকল্প প্রদর্শনী’ পদ্ধতি কী জানতে চাইলে সুমন বলেন, “চলচ্চিত্র উৎসবের পর হলে মুক্তি দিলে দেখা যায় খুব বেশি দর্শক আসছে না। অন্যদিকে বিকল্প পদ্ধতিতে প্রথমে টিএসসিতে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে আট শতাধিক দর্শক হাজির হয়। পর্যায়ক্রমে আমরা চট্টগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা শহরে প্রদর্শনীর আয়োজন করে দেখি দর্শক উপচে পড়ছে।”
‘বিকল্প প্রদর্শনী’তে ‘সাঁতাও’র এত সাড়া পাওয়ার মূল কারণ সুমন মনে করেন দর্শকরা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অভ্যাস হারিয়েছে।
“হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অভ্যাস দর্শকের আর নেই। সাঁতাওয়ের প্রদর্শনী করতে গিয়ে আমরা এমন দর্শক পেয়েছি যারা ২০-২৫ বছর পর সিনেমা দেখছেন। এতদিন সিনেমার মান ও হলের পরিবেশ খারাপ বলে তারা হলে যাননি।”
তিনি বলেন, “এমন দর্শকও পেয়েছি যাদের বয়স ২৫-৩০ বছর। অথচ তারা কখনো হলে গিয়ে সিনেমা দেখেননি। বিকল্প প্রদর্শনীতে সাঁতাও দেখতে এসেছেন।”
একের পর এক ‘বিকল্প প্রদর্শনী’র আমন্ত্রণ পাচ্ছেন জানিয়ে এই নির্মাতা বলেন, “আমন্ত্রণ পাচ্ছি অনেক। রাজশাহী চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেলা ৩টা, ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টায় মোট তিনটা প্রদর্শনী হবে। একইদিনে ঢাকার ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে একটি প্রদর্শনী আছে।
এছাড়া আগামী ২ মার্চ ঢাকার শিল্পকলা একডেমি, ৩ মার্চ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাব, ৫ মার্চ কুড়িগ্রামের চিলমারিতে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রদর্শনীর তারিখও ঠিক হয়েছে বলে জানান সুমন।
লাভ বেশি কোথায়?
হলের চেয়ে ‘বিকল্প প্রদর্শনী’তে আর্থিক লাভ বেশি হয় জানিয়ে খন্দকার সুমন বলেন, “বিকল্প প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে প্রদর্শনীর খরচ বাদ দিয়ে পুরো টাকাটাই পাচ্ছেন প্রযোজক-নির্মাতা। অন্যদিকে জেলা পর্যায়ের সিনেমা হলে একশ টাকার টিকেট বিক্রি হলে ৪০ টাকা দেখানো হয় টিকেট মূল্য। বাকি ৬০ টাকা ফ্যাসিলিটিজ বাবদ দেখানো হয়। সেই ৪০ টাকা থেকে ২০ টাকা পান হল মালিকরা, ২০ টাকা প্রযোজক-নির্মাতা।”
সেই হিসেবে হলের চেয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে প্রদর্শনী সিনেমার জন্য বেশি ‘লাভজনক’ বলে জানান এই নির্মাতা।
তিনি বলেন, “এর আগে তানভীর মোকাম্মেল, তারেক মাসুদসহ অনেকেই বিকল্প প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্র দেখিয়েছেন। তবে সেই দর্শকরা এখন আর নেই। আমাকে নতুন করে দর্শক তৈরি করতে হচ্ছে।”
সেজন্য দলের নিরলস প্রচেষ্টার কথা বর্ণনা করে এই নির্মাতা বলেন, “অনেক জায়গায় আমার দলের ছেলে-মেয়েরা টিকেট নিয়ে মানুষের কাছে কাছে যাচ্ছে। কারণ আমরা দেখেছি হলে যাওয়ার অভ্যস্ততা না থাকায় হলে গিয়ে টিকেট কেটে ছবি দেখবে এই চিন্তাও অনেকের মাথায় নেই। হাতের কাছে টিকেট পেলে খুব সহজেই তারা হলমুখী হয়।”
ভারতে সাঁতাও
ভারতে সাঁতাও মুক্তির চেষ্টা চলছে জানিয়ে খন্দকার সুমন বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের অনেক দর্শক আমার কাছে জানতে চেয়েছেন ছবিটি তাদের হলে কবে মুক্তি পাবে। ইতোমধ্যে কলকাতার উৎসবে সাঁতাওয়ের প্রদর্শনী হয়েছে। দর্শক হলে গিয়ে সিনেমাটা দেখতে চায়।”
তিনি বলেন, “কলকাতায় আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন, যারা ওই দেশে সিনেমাটা মুক্তির চেষ্টা করছেন।”
ভারতীয় সিনেমা বাংলাদেশে মুক্তি দেওয়া না দেওয়া বিষয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন সুমন মনে করেন, ‘সাফটা’ চুক্তির আওতায় দেশীয় চলচ্চিত্রও যেন ভারতে মুক্তি পেতে পারে সেই পথ সুগম করার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
সাঁতাওয়ের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল, ফজলুল হক ও আব্দুল্লাহ আল সেন্টুসহ অনেকে। তারকাবিহীন এই সিনেমা নির্মাণে কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে পাশে না পেলেও থেমে থাকেননি নির্মাতা খন্দকার সুমন। নিজের টাকায় কুলিয়ে না ওঠায় শরণ নেন সাধারণের।
১ হাজার ৫৫৯ জন মানুষের কাছ থেকে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ অনুদান নিয়ে ‘সাঁতাও’ তৈরি হয়েছে। তাই সুমন এটাকে বলছেন গণ অর্থায়নে নির্মিত সিনেমা।
ছবি মুক্তিতেও আসে সংগ্রাম, সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা ঘুরেছেন হলে হলে, লাভ হয়নি। পরে সিনেমার প্রিমিয়ারে মেলে দারুণ দর্শক সাড়া।
পুরনো খবর
পুরানো খবর:
কাটছাঁট ছাড়াই ছাড়পত্র পেল গণঅর্থায়নের ‘সাঁতাও’পুরানো খবর:
প্রিমিয়ারে এমন সাড়া, ‘সাঁতাও’ তবু হল পাবে না?পুরানো খবর:
ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা ‘সাঁতাও’পুরানো খবর:
শুক্রবার ‘সাঁতাও’ আসছে ৫ হলে