Published : 04 Sep 2022, 04:54 PM
তিনি গান লিখেছেন ২০ হাজারের বেশি; সর্বকালের সেরা বাংলা গান নির্বাচনে বিবিসির জরিপে শীর্ষ ২০ গানের তিনটিই তার। এই তিনি গাজী মাজহারুল আনোয়ার। একাধারে তিনি ছিলেন গীতিকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক।
বাংলা আধুনিক গানের পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা গাজী মাজহারুল আনোয়ার রোববার চিরবিদায় নিলেন; রেখে গেলেন অসংখ্য গান, যেগুলো এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
জয় বাংলা বাংলার জয়
১৯৭০ সালের মার্চ মাসে গানটি লেখেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির বঞ্চনা-দুর্দশা আর স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষাকে ছন্দময় গীতে প্রকাশ হয় এই গানে। অমর এই গানটিতে সুর দিয়েছেন আনোয়ার পারভেজ। শাহনাজ বেগম ও আব্বুল জব্বার দিয়েছেন কণ্ঠ। ‘জয় বাংলা’ চলচ্চিত্রের জন্য গানটি লেখা হলেও মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙালির সাহস ও স্বপ্নের প্রতীক হয়ে ওঠে গানটি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের সঙ্গেও গানটি জড়িয়ে আছে। বিবিসির জরিপে সেরা ২০ গানের মধ্যে এই গানটির অবস্থান ছিল ত্রয়োদশ।
একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনারগাঁয়
গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা গানটি দেশাত্মবোধক গানে আরেক সংযোজন। এই গানেরও সুর করেছেন আনোয়ার পারভেজ। গেয়েছেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। বিবিসির সর্বকালের সেরা ২০ বাংলা গানের তালিকায় ‘একবার যেতে দে না’ গানের অবস্থান ছিল পঞ্চদশ।
একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল
গাজী মাজহারুল আনোয়ার-আনোয়ার পারভেজ-শাহনাজ রহমতুল্লাহ ত্রয়ীর আরেক সৃষ্টি ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল।’ বিবিসির সর্বকালের সেরা ২০ বাংলা গানের তালিকায় গানটি উনবিংশ স্থানে উঠে আসে।
আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার
১৯৭৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহার করা হয়। আলাউদ্দিন আলীর সুরে গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। ছবিটি মুক্তির পর দ্রুত গানটি দেশব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আকাশের হাতে আছে এক রাশ নীল
‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’ গানটি ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ সিনেমার। চিরসবুজ গান হিসেবে এখনও শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় গানটি। গানটিতে সুর করেছিলেন সত্য সাহা। শিল্পী ছিলেন বশীর আহমেদ ও আনজুমান আরা বেগম। ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া আয়না ও অবশিষ্ট সিনেমায় অভিনয় করেন আজিম, সুজাতা, সুচন্দা।
ইশারায় শিস দিয়ে আমাকে ডেকো না
‘বন্দিনী’ সিনেমায় ছিল এই গান। সুর করেছিলেন পারভেজ আনোয়ার। কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। আলাউদ্দিন আলীর সংগীতায়োজনে গানটি এখনও সব শ্রেণির শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। এই গানে ববিতার সঙ্গে পর্দায় দেখা যায় ওয়াহিদ কাদেরকে। তিনি ছিলেন তৎকালীন আফগান রাষ্ট্রদূতের ছেলে।
এই মন তোমাকে দিলাম
তরুণ শিল্পী মাহতাম সাকিব তুমুল জনপ্রিয় হয়েছেন এই গান গেয়ে। গানটি প্রথম ব্যবহার হয় ‘মানসী’ সিনেমা। গেয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। সুর করেছিলেন আনোয়ার পারভেজ। মানসী পরিচালনা করেন অভিনেতা ও পরিচালক ফখরুল হাসান বৈরাগী।
গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে
গানটি নায়করাজ রাজ্জাকের স্বরলিপি সিনেমার। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭০ সালে। এ গানের মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় প্রথম কণ্ঠ দেন রুনা লায়লা। রুনা লায়লা তখন লাহোরে বসবাস করতেন। লাহোর গিয়ে গানের রেকর্ড করা হয়। সুবল দাসের সুরে গানে কণ্ঠ দেন রুনা লায়লা ও মাহমুদুন নবী।
চোখ যে মনের কথা বলে
‘যে আগুনে পুড়ি’ সিনেমায় রাজ্জাক-সুচন্দাকে পর্দায় দেখা যায় এই গানের সঙ্গে। গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন খন্দকার নুরুল আলম, সুরও দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ‘আজ গায়ে হলুদ’ সিনেমায়ও গানটি ব্যবহার করা হয়। মৌসুমী, আমিন খান ও মাহফুজকে গানের সঙ্গে পর্দায় দেখা যায়। গান গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। এই সিনেমার জন্য গানটিতে নতুন করে সুর দেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
নীল আকাশের নিচে
গাজী মাজহারুল আনোয়ারের আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তা চলেছি একা’। ‘নীল আকাশের নিচে’ সিনেমায় গানটি গেয়েছেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। গানটির সুর করেছেন সত্য সাহা।
এছাড়াও গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘চক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘কারো আপন হইতে পারলি না অন্তর’, ‘হয় যদি বদমান হোক আরো’, ‘দুনিয়াটা মস্ত বড়’সহ অনেক গান।