পানমশলার বিজ্ঞাপন: শাহরুখ-টাইগারের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ, ফের আদালতে ছুটলেন অজয়
মহারাষ্ট্রে গুটখা ও পান মসলা জাতীয় পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নিষিদ্ধ পানমশলা ‘বিমল এলাচি’র বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের কারণে বলিউডের তিন অভিনেতা শাহরুখ খান, অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেছে সংস্থা।
‘দ্য ওয়াল’ জানিয়েছে ‘বিমল এলাচি’র বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের জন্য গেল ১১ অগাস্টে মুম্বাই বিভাগের মহারাষ্ট্র খাদ্য ও ওষধ প্রশাসন (এফডিএ) তিন অভিনেতাকে কারণ দর্শানোর যে নোটিস পাঠিয়েছিল। দেড় মাস পর তার জবাবও এসেছিল শাহরুখ, অজয় ও টাইগারের পক্ষ থেকে।
পাশাপাশি এফডিএর এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘একতরফা ও স্বেচ্ছাচারী’ দাবি করেছেন অজয়। এফডিএর পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিস চ্যালেঞ্জ করে মুম্বাই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার বেঞ্চে আগামী ৪ নভেম্বর দেবগনের করা আবেদনের উপর শুনানির কথা রয়েছে।
অজয়কে পাঠানো মহারাষ্ট্র এফডিএর নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ‘বিমল ইলাইচি’র বিজ্ঞাপনটি বস্তুত বিমল পান মসলারর পরোক্ষ প্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়। মহারাষ্ট্রে গুটখা ও পান মসলা জাতীয় পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এফডিএ অভিযোগ করে জানিয়েছে, বিমল ব্র্যান্ডটি এমন সব গুটখা ও পান মসলার সঙ্গে যুক্ত, যেগুলি রাজ্যে নিষিদ্ধ। এই একই বিজ্ঞাপনে অভিনয় করার জন্য বলিউডের অন্য দুই তারকা—শাহরুখ খান এবং টাইগার শ্রফকেও একই ধরনের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
হাই কোর্টে করা আবেদনে অজয় জানিয়েছেন, প্রস্তুতকারক সংস্থাকে নোটিস না পাঠিয়ে, কেবল অভিনেতা হওয়ার কারণে তাকে এভাবে খামখেয়ালি বা স্বেচ্ছাচারী উপায়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মহারাষ্ট্র এফডিএর কমিশনার তুকারাম মুন্ধে জানিয়েছেন, রাজ্যের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে শাহরুখ, অজয় এবং টাইগারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। তুকারাম মুন্ধের ভাষ্য, অভিনেতারা আইন ভেঙেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি বিচার বিভাগীয় নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হবে।
তুকারারম মুন্ধে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা আইনের অধীনে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। বিজ্ঞাপনদাতার দায়িত্ব শুধু পণ্য প্রস্তুতকারকের উপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। কোনও পণ্য প্রচারের আগে তার বিষয়ে যথাযথ যাচাই করা বিজ্ঞাপনদাতারও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে দাবি এফডিএ কমিশনারের।
কেউ তারকা হলেই তাকে আইন দায়বদ্ধতা থেকে অব্যাহতি দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তুকারাম মুন্ধে।
তারা তারকা হলেও ‘আইন লঙ্ঘনকারী’: শাহরুখ-অজয়দের নিয়ে তুকারাম মুন্ধের বার্তা
