ক্যামেরা দেখলেই জয়া কেন তেড়ে যান?
শ্বেতা বলেন, “মায়ের আসলে দম আটকে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে। চারপাশে বেশি লোকজন দেখলেই দমবন্ধ হতে শুরু করে, সেই কারণে এমন আচরণ করেন তিনি।
‘ঝগড়াটে’, ‘বদমেজাজি’, ‘দাম্ভিক’, ‘খিটখিটে’- ভারতের হিন্দি সিনেমার অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য জয়া বচ্চনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বলে সমালোচনা করা হয়।
তার মেজাজ যে ‘সপ্তমে চড়ে’ থাকে, বলিউডে এ কথা কারও অজানা নয়। ক্যামেরা তাক করে থাকা পাপারাজ্জিদের বকাবকি করা বা রেগে চিৎকার করে ওঠার ঘটনা জয়ার জন্য নতুন কিছু নয়।
তবে জয়াকে ‘বদমেজাজি’ বলে রাজি নন তার দুই ছেলেমেয়ে অভিষেক বচ্চন ও শ্বেতা বচ্চন। তাদের ভাষ্য, ভিড় দেখলে দম বন্ধ হয়ে আসে বলে মেজাজ হারান জয়া।
টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এর মধ্যে নতুন একটি ঘটনা জয়াকে ফের আলোচনায় এসেছে। সোশাল মিডিয়ায় কদিন আগে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে সমাজবাদী পার্টির এক কর্মীকে রীতিমতো ধাক্কা মারেন অমিতাভপত্নী।
ওই দিন জয়া বচ্চন লাল রঙের শাড়ি ও সমাজবাদী পার্টির ওই কর্মী লাল টুপি পরেছিলেন। জয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ ওই ব্যক্তি জয়ার অনুমতি ছাড়া সেলফি তুলতে গেলে বিরক্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন জয়া। রাগে চিৎকার বলেন, ‘হচ্ছেটা কী? কী করছেন আপনি?’
এ ঘটনায় নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সোশাল মিডিয়ায় একজন লিখেছেন, “সবাই উনার বদমেজাজ ও আজেবাজে কথাবার্তা সহ্য করে কারণ উনি অমিতাভ বচ্চনের স্ত্রী বলে।”
বিজেপির সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত জয়াকে ‘লাল ঝুঁটিধারী ঝগড়াটে মুরগি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
মায়ের এ ধরনের ব্যবহার নিয়ে অভিষেক ও শ্বেতার কথা হল, জয়া বচ্চন ‘অভদ্র বা বদমেজাজি মানুষ নন’। তিনি আসলে ক্লস্টোফোবিয়া ভুগছেন, এ কারণে ভিড়ের জায়গায় অভিনেত্রী অস্বস্তি বোধ করেন। এছাড় অনুমতি ছাড়া ছবি তোলার বিষয়টিও অভিনেত্রীর ভীষণ অপচ্ছন্দের।
জয়া বচ্চনকে ‘ভিন্ন চিন্তাধারার’ মানুষ হিসাবে বর্ণনা করেছেন তার ছেলেমেয়েরা। একই ধরনের কথা পরিচালক করণ জোহরের চ্যাট শো কফি উইথ করনে গিয়েও একবার বলেছিলেন অভিষেক।
তবে ইদানিং জয়াকে নিয়ে তটস্থ থাকেন অনেকে। অন্য তারকাদের ছবি তোলার জন্য হইচই লেগে গেলেও জয়ার বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন আলোকচিত্রীরা।
এ বিষয়ে অভিষেক বলেছেন, আজকাল বিমানবন্দরে তার মাকে দেখলে ছবি তোলার জন্য আর হুড়োহুড়ি করেন না আলোকচিত্রীরা। অনেক সময়ে তার ছবি না তুলে বিমানবন্দরের ভেতরের প্রবেশের রাস্তা করে দেন তারা।
শ্বেতা বলেন, “মায়ের আসলে দম আটকে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে। চারপাশে বেশি লোকজন দেখলেই দমবন্ধ হতে শুরু করে, সেই কারণে এমন আচরণ করেন তিনি। আসলে এটা এক ধরনের আতঙ্ক।”
