ট্রেইলারে সার্কাস, জাদু আর জয়া আহসান

২৩ সেপ্টেম্বর সার্কাসকন্যা হয়ে আসছেন জয়া আহসান

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 05:01 AM
Updated : 11 Sept 2022, 05:01 AM

‘আমি বলি এটা কোনো গল্প না। না বিউটির; না সার্কাসের।’

দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের এমন সংলাপ দিয়েই শুরু হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিনেমা বিউটি সার্কাসের ট্রেইলার।

শনিবার রাতে প্রকাশিত হয়েছে ২ মিনিট ৮ সেকেন্ডের এই ট্রেইলার। মাহমুদ দিদার পরিচালিত বিউটি সার্কাস মুক্তি পাচ্ছে ২৩ সেপ্টেম্বর।

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা, সার্কাস, জাদুর পাশাপাশি সিনেমার ট্রেইলারে আছে প্রেম, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের ইঙ্গিত।

সার্কাসকন্যা বিউটি চরিত্রে নজর কেড়েছেন জয়া আহসান। তার দেখানো জাদু ও সংলাপ প্রশংসিত হচ্ছে।

ট্রেইলারের গল্প, শিল্পীদের অভিনয়, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও ভিডিও এডিটিংয়ে দারুণ এক সিনেমার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

কমেন্টবক্সে একজন লিখেছেন, ‘ট্রেইলার জমিয়ে দিলেন জয়া আহসান।’

জয়া আহসান বলেন, “আমি বলব, এই কাজটি আমার অভিনয় জীবনের খুব রোমাঞ্চকর কাজের একটি। অভিনয়শিল্প আপনাকে এমন কিছু জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে আপনি আগে কোনোদিন যাননি; আবার এমন কিছু চরিত্র প্রদর্শন করার সুযোগ করে দেয়, যার অভিজ্ঞতাটাও একেবারে নতুন।

“এমনি একটি ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ এসেছিল সার্কাস- প্রদর্শনকারী সেজে। তাও আবার এক জম্পেশ সার্কাসের স্টেজে! সার্কাসের এই পুরো অভিজ্ঞতাটাই আমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ছিল সামনে থেকে কখনো দেখার সুযোগ হয়নি বলে।”

২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত চলচ্চিত্রটি নিবেদন করছে বসুন্ধরা গুঁড়া মশলা।

সার্কাসের বিউটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। আরও অভিনয় করেছেন- ফেরদৌস আহমেদ, এবিএম সুমন, শতাব্দী ওয়াদুদ, গাজী রাকায়েত, তৌকির আহমেদ, হুমায়ূন সাধু, মনীষা আর্চি।

জয়া আহসানের ভাষায়, বিউটি সার্কাস একটি ‘বিগ ফিল্ম’। আর নির্মাতা মাহমুদ দিদার যে আয়োজন করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন, তার ‘তুলনা হয় না’।

“বিশাল আয়োজনে সত্যিকারের সার্কাস তাঁবুর নিচে শুটিং অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল। চলচ্চিত্রটির জন্য শুভকামনা জানাই।”

নির্মাতা মাহমুদ দিদার বলেন, “মুক্তির আগেই ‘বিউটি সার্কাস’ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ও ভালোবাসা অভাবনীয়। চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের লড়াই শেষ হতে যাচ্ছে।

২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নওগাঁর সাপাহার ও মানিকগঞ্জে দুইশ জনের নির্মাণসঙ্গী নিয়ে প্রায় দুই হাজার গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে চিত্রধারণের কাজ শুরু করেন নির্মাতা। এর জন্য বিশাল সার্কাস প্যান্ডেল নির্মাণ ও গ্রাম্যমেলার আয়োজন করা হয়।

চলচ্চিত্রটির ব্যাপ্তি ও নির্মাণের বৃহৎ আয়োজনের কারণে কাজ শেষ করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগে। এরপর করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে পিছিয়ে যায় মুক্তি।

এ সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছে তিনটি গান। চিরকুট ব্যান্ডের শারমিন সুলতানা সুমী, অ্যাশেজ ব্যান্ডের ইভান ও টুনটুন বাউল গানগুলো গেয়েছেন।

মাহমুদ দিদার বলেলেন, “আশা করছি, আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক এই দারুণ চলচ্চিত্রটি দর্শক উপভোগ করবেন সিনেমা হলে গিয়ে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক