Published : 31 Aug 2025, 06:42 PM
‘পেপার রিংস’ গানে যুক্তরাষ্ট্রের টেইলর সুইফট গেয়েছেন, ‘আমি চকচকে জিনিস পছন্দ করি, তবে কাগজের আংটি দিলেও আমি তোমাকে বিয়ে করব’। গানের এ বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যায়নি সুইফটের কাজে।
বিবিসি লিখেছে, কেনসাস সিটি চিফসের তারকা ট্র্যাভিস কেলসির সঙ্গে বাগদান করে সুইফট তার অনামিকায় পরেছেন বিশাল আকৃতির হীরার আংটি, যা আলোচনায় এসেছে।
সুইফট-কেলসি বাগদানের ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ইনস্টাগ্রামে যৌথ পোস্টে লিখেছেন, “তোমাদের ইংরেজি শিক্ষক আর জিম শিক্ষক বিয়ে করতে যাচ্ছেন।”
তবে প্রত্যেক ইংরেজি শিক্ষকের পক্ষে ছয় বা সাত অংকের দামে হীরার আংটি কিনতে পারবেন, তা নয়।
সুইফট-কেলসির বাগদান ও নজর কাড়া আংটি ঘিরে ভক্ত এবং কৌতূহলী অনেকে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন।
কেলসি নিজেই আংটিটির নকশা করেছেন, তবে তাকে সহায়তা করেছেন গয়নার এক কারিগর। আংটির ‘ভিনটেজ’ নকশার সঙ্গে সুইফটের কদিন আগে ঘোষণা করা নতুন অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ এর নান্দনিকতার সঙ্গে মানানসই বলে ধরে নিয়েছেন কেউ কেউ।
রিটেইল জুয়েলার্স ম্যাগাজিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রুথ ফকনার বলেন, “শিল্প বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন টেইলর সুইফটের ওই আংটির দাম ৫ লাখ পাউন্ড থেকে শুরু করে ৪ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
“আংটির হীরাটি ৮ থেকে ১০ ক্যারেটের ভিনটেজ পাথর বলে মনে হচ্ছে, যা প্রাচীন সংগ্রহ হিসেবে অত্যন্ত বিরল।”
গয়না বিষয়ক সাংবাদিক র্যাচেল টেইলর বলেন, “আংটির হীরায় এক ধরনের নরম ঝলমলে ভাব রয়েছে। এর কারণ সম্ভবত হীরাটি হাতে কাটা হওয়ার কারণে। এটি যন্ত্রে কাটা হীরার মত নয়।”
এই সংবাদিকের ভাষ্য, “সুইফটের আংটির নকশা বর্তমানে ভিনটেজ ধাঁচের গয়নার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। যা গায়িকার রোমান্টিক নান্দনিকতার সঙ্গে মানানসই।”
ফকনার বলেন, যখন কোনো তারকার বাগদানের আংটি যদি আলাদা করে নজর কাড়ে, তখন তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়।
ডায়মন্ড এক্সপার্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রোনা ফিটজপ্যাট্রিক বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকা, সবার পছন্দের জায়গা নিয়েছে বড় আকৃতির হীরা।
“তবে তারকারা নিজেদের আলাদা করে তুলতে এখন অনন্য নকশার 'স্টেটমেন্ট' আংটি বেছে নিচ্ছেন।”

এ বছর বিভিন্ন তারকার হাতে শোভা পাওয়া আংটিগুলোও সেই প্রবণতাকে আরো জোরালো করেছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেত্রী ও গায়িকা জেন্ডায়ার অস্বাভাবিকভাবে আড়াআড়ি বসানো হীরা। কিংবা ডুয়া লিপার মোটা সোনার রিঙে বসানো গোলাকার হীরা। তাদের হীরাগুলো আকারে বড় হলেও অবশ্য প্রচলিত ধাঁচের নয়।
এমনকি তারকারা যখন হাল ফ্যাশন অনুসরণ করেন, যেমন বড় আকারের ডিম্বাকৃতির হীরা; তারা এই কাজ এতটা জাঁকজমকপূর্ণভাবে করেন, যা সহজে নকল করা কঠিন।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ এই মাসের শুরুতে ফুটবলারের কাছ থেকে পাওয়া আংটির ছবি শেয়ার করার পরও তা খবরের শিরোনামে আসে।
রোনা ফিটজপ্যাট্রিক জানিয়েছেন, জর্জিনা রদ্রিগেজের বিশাল ডিম্বাকৃতি হীরার ওই আংটির দাম সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
তিনি রসিকতা করে বলেন, “এটা এমন কোনো সাধারণ আংটি নয়, যা পরে টেসকোতে কেনাকাটা করতে যাওয়া যায়।”
রদ্রিগেজের ঘোষণা সামনে আসার পর আরো কয়েকজন গয়না সরবরাহকারী নিজেদের মত করে আংটিটির নকশা বাজারে আনছেন।
ফিটজপ্যাট্রিক বলেন, “সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দামী আংটি কেনা সম্ভব নয়। তাই কিছু জুয়েলারি চাহিদা মেটাতে ল্যাব-গ্রোথ তৈরি শস্তা হীরা বাজারজাত করছে।”
এই বিকল্প বিষয়টি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফিটজপ্যাট্রিক।
তিনি বলেন, “বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫২ শতাংশ বাগদানের আংটিতে ল্যাব-গ্রোথ হীরা ব্যবহৃত হচ্ছে।”
কিছু ক্রেতা নৈতিক কারণেও ল্যাব–গ্রোথ হীরা বেছে নিচ্ছে; তবে সাংবাদিক র্যাচেল টেইলর বলেছেন, বিষয়টি অতটা সহজ নয়।
তার ভাষ্য, ‘ল্যব–গ্রোন’ হীরা প্রাকৃতিক খনি থেকে পাওয়া হীরার তুলনায় ‘টেকসই নয়’, কারণ এটি উৎপাদনে বিপুল মাত্রায় শক্তি খরচ হয়।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল, তারা বেঁচে থাকে এই মাধ্যমের উপর নির্ভর করে।”
সাংবাদিক র্যাচেল টেইলর বলেছেন, যদিও হীরা খনিতে কর্মপরিবেশ নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়েছে।
র্যাচেল টেইলর বলেন, “যতক্ষণ না না আপনি এমন একটি নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে কিনছেন, যারা যারা পরিবেশ সুরক্ষা করছে এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের যত্ন নিচ্ছে; তাহলে শেষ পর্যন্ত আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবেযে আপনার কাছে কোনটি বেশি গুরুত্ব বহন করে।”
সুইফটের মত প্রাচীন হীরাকে ঘিরে ‘নৈতিকতাও জটিল’ বলে মন্তব্য করেছেন র্যাচেল টেইলর।
“ভিনটেজ ধাঁচের গয়নাগুলো অনেক সময় নীতিগতভাবে ভালো পছন্দ হতে পারে। কিন্তু আপনি এর উৎস ও ইতিহাস আপনি জানবেন না, এটা হতে পারে। প্রাচীন হীরা কিনলে নতুন করে খনন করার দরকার হয় না। তবে এটিও সত্য যে কোন পরিস্থিতিতে তা খনন করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা থাকে না।
“যদি আমরা ১০০ বছরেরও বেশি আগের সময়ের কথা বলি, তবে সেই পরিস্থিতি খুব একটা সুখকর ছিল না বলেই ধরে নিতে হয়।”
রুথ ফকনার বলেছে, ক্রেতারা এখন ভিনটেজ গয়না পুনঃব্যবহার করার প্রতি ঝুঁকছেন। এছাড়া কাস্টমাইজড নকশা তৈরি করতেও তাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক দম্পতি এমন গয়না পছন্দ করেন যার পেছনে কোনো গল্প থাকে; যেমন পরিবারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গয়না।
সুইফটের আংটির পেছনে এমন কোনো ইতিহাস আছে কী না সেটি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে আংটি নিয়ে তার খুশি ও আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।