০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রুচি তৈরির দায়িত্ব পরিচালকের: আড্ডানামায় ইমতিয়াজ বর্ষণ

গ্লিটজের সাক্ষাৎকার সিরিজ 'আড্ডানামার’ দশম পর্বে অতিথি হয়ে এসেছিলেন অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 12:06 AM

Updated : 09 Oct 2026, 12:06 AM

দর্শকের রুচি তৈরির দায়িত্ব একজন পরিচালকের, ভালো মানের দর্শক তৈরির দায়িত্বও তারই। সৃষ্টিকে অবারিত করতে একজন নির্মাতার নতুন নতুন পরিকল্পনা ও কাজ দর্শক মানকে ঋদ্ধ করে। পরিচালক ও দর্শকের রসায়ন নিয়ে কথাগুলো বলেছেন অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ।

গ্লিটজের সাক্ষাৎকার সিরিজ 'আড্ডানামার’ দশম পর্বে অতিথি হয়ে এসেছিলেন অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ।

সেখানে তিনি বলেন, উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব স্তিমিত হওয়ার পর সেখানে আস্তে আস্তে চারা গজিয়ে গাছ বড় হয়ে তৈরি হয় নতুন কিছু, তবে সে কাজের জন্য সময় লাগে। অপেক্ষার প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর দেশের বিনোদন জগৎকে তেমন এক ধরনের সময়ের মধ্য দিয়েই পার হতে দেখছেন তিনি।

সময়টি এখন ‘টিকে থাকার’ মন্তব্য করলেও, বর্ষণ ভালো কিছুর জন্য আশাবাদী।

পাঁচ থেকে ছয় বছরের ক্যারিয়ারে বর্ষণ আলোয় আসেন তানিম নূর পরিচালিত ওটিটি সিরিজ ‘কাইজার’এ খলচরিত্র মোক্তার মাহমুদ জাফরি চরিত্রে অভিনয় করে।

বর্ষণের অভিনয় শুরু নিজের শহর চট্টগ্রামে, মুক্তিযুদ্ধের নাটকে পাকিস্তানি মেজরের চরিত্র দিয়ে। তবে কাজের বৃহৎ পরিসর চাইছিলেন তিনি। সেই তাগিদে বন্দরনগরী ছেড়ে ঢাকায় এসে থিতু হওয়া।

শুরুতে ক্যামেরার পেছনে পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু। পরের পর্ব অভিনয়। পাশাপাশি চলে গান গাওয়া।

'উনপঞ্চাশ বাতাস' দিয়ে চলচ্চিত্রের শুরুর যাত্রা, সিনেমা 'অমীমাংসিত' নিয়ে সেন্সরশিপের সঙ্গে সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, আর আসন্ন ওয়েব ফিল্ম 'সেপারেশন' এ হঠাৎ যুক্ত হওয়ার গল্প বর্ষণ করেছেন আড্ডানামায় এসে।

আড্ডানামার এবারের পর্বটি সঞ্চালনা করেছেন মঞ্চের অভিনেত্রী নিকিতা নন্দিনী। গ্লিটজের এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে আলোক হেলথকেয়ার এন্ড হাসপাতাল।

আগের নয় পর্বে অতিথি হয়েছিলেন অভিনেতা আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন, চঞ্চল চৌধুরী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ এবং ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী, শামীম আজাদ। এই পর্বগুলো সঞ্চালনা করেছিলেন অভিনেত্রী নিমা রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ফেইসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে এ অনুষ্ঠান।

'এটা আসলে টিকে থাকার সময়'

আড্ডার শুরুতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে কেমন আছেন, জানতে চান নিকিতা নন্দিনী। উত্তরে ইমতিয়াজ বর্ষণ বলেন, "যদি বলেন, অনেক ভালো আছি, সে অর্থে উত্তরটা হবে না। বিষয়টা এখন সবার জন্যই, অলমোস্ট কিছু বাদ দিয়ে বাকি ৭০-৮০ পার্সেন্টের জন্যই বিষয়টা আসলে সারভাইভাল মুড।”

ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “যখন আপনার উপকূল অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে, ঘূর্ণিঝড়টা যখন সরে যায়, তারপর যে ধ্বংসস্তূপ থাকে, তারপর ওখান থেকে আস্তে আস্তে চারা গজিয়ে গাছ বড় হতে হতে যে সময়টা লাগে, ওই সময়টার মধ্য দিয়ে আমরা আসলে পার করছি।”

কতটা ধৈর্য ধরে এই সময় পার করা যাবে বলে মনে করেন? বর্ষণ বলেন, বিষয়টি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, পুরো পৃথিবী এখন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে পাড়ি দিচ্ছে।

বর্ষণের কথায়, “যখন আনরেস্ট হয় সবকিছু, প্রথম যে আঘাতটা আসে সেটা হল বিনোদন জগতের উপর। তো স্বাভাবিকভাবেই এটার দ্বারা আমরা আক্রান্ত। তো একটু তো সময় লাগবেই।"

‘আর কোথাও অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার সাহস করা যায় না'

অভিনয় জীবনের সূচনা কোথায়, কীভাবে জানতে চাইলে বর্ষণ বলেন, শুরু চট্টগ্রামে তাদের পাশের পাড়ায়। সে সময়কার পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চার প্রংশসাও করেন কথা প্রসঙ্গে।

তিনি বলেন, “পাশের এলাকার একটা প্রোগ্রামে আমার বন্ধু আমাকে নিয়ে যায় যে, চল আমাদের পাড়ায় একটা নাটক হচ্ছে, করবি? তো ওখানে যেদিন আমি প্রথম দিন যাই রিহার্সালে, আমাকে প্রথম দিনেই দুই-তিনটা লিড ক্যারেক্টারের মধ্যে একটা আমাকে দিয়ে দেয়।"

চরিত্রটা মনে আছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের গল্পের নাটক ছিল সেটি, আর তিনি অভিনয় করেছিলেন পাকিস্তানি মেজরের চরিত্রে। অর্থাৎ বর্ষণের অভিনয় শুরু খল চরিত্রে।

তবে মঞ্চে অনেক বেশি কৌতুক অভিনেতার চরিত্রে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন বর্ষণ।

অভিনয়ের তাগিদেই নিজের শহর ছেড়ে ঢাকায় আসা।

তিনি বলেন, “কারণ, আমাদের দেশে শুধুমাত্র ঢাকা শহর ব্যতীত আর কোথাও আপনি অভিনয়টাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার মত সাহস করতে পারবেন না।"

ঢাকায় টিকে থাকার সংগ্রাম

মফস্বল থেকে রাজধানীতে এসে থিতু হওয়া ও ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বর্ষণ বলেন, "ঢাকা শহরে যারা বড় হয়, তাদের আলাদা করে খাপ খাওয়াতে হয় না; জন্মসূত্রে তারা এগুলো পেয়ে যায়। কিন্তু যারা মফস্বল থেকে আসে, ঢাকা শহরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।"

একটি পার্থক্য টেনে বলেন, চট্টগ্রাম একটি বড় মেট্রোপলিটন শহর হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার সঙ্গে এর মিডিয়া অঙ্গনের একটা দূরত্ব ছিল।

তার কথায়, "চট্টগ্রামে যখন আমরা ছিলাম, তখন সেখানকার টেলিভিশন চ্যানেল মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা অন-এয়ার যেত এবং খুব আহামরি কোনো প্রোডাকশন হত না। তা দেখে বড় কোনো স্বপ্ন দেখার সুযোগ ছিল না। ফলে ক্যারিয়ারের খাতিরে আল্টিমেটলি আমাকে ঢাকায় আসতেই হত।"

ঢাকায় প্রথমে পরিচালকের সহকারী হিসেবে ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছেন বর্ষণ। তিনি বলেন, তার শেখার পর্ব ছিল সেটি।

“ওই সময়টাতেই আমি শিখেছি কীভাবে এখানে থাকতে হয়, কাজ করতে হয় এবং নিজের লড়াইটা নিজেকেই লড়তে হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে যেতেই এক পর্যায়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পেরেছি এবং এখনও কাজ করে যাচ্ছি।"

বর্ষণ এক সময়ে মূকাভিনয়ও করেছেন।

'আমিই আমার প্রথম সমালোচক'

২০২০-২১ সালে ক্যারিয়ারের বাঁক বদলে যায় বর্ষণের। 'উনপঞ্চাশ বাতাস' চলচ্চিত্র দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হয় তার, এরপর মুক্তি পাআয় 'চন্দ্রাবতী কথা' ও 'মুন্সিগিরি'।

এই তিন সিনেমার চরিত্র নিয়ে বর্ষণ বলেন, "তিনটা চরিত্রই তিন ধরনের। ঊনপঞ্চাশ বাতাস একটা কনটেম্পরারি স্টোরি, সমাজের এমন একটা সহজ-সরল ছেলেটাকে ওখানে হিরো হিসেবে দেখানো হয়, এটা একটা ভালো দিক। আর 'চন্দ্রাবতী কথা' হল একটা পিরিওডিক্যাল ফিল্ম, প্রায় ৪০০ বছর আগের গল্প।

"৪০০ বছর আগের কোনো রেফারেন্স বাংলা সিনেমাতে তো নাই, স্বাভাবিক থাকারই কথা না। টেক্সটও আসলে খুব বেশি পাওয়া যায় না, পেইন্টিংসও খুব একটা নাই। তো এই ধরনের একটা পিরিওডিক্যাল ক্যারেক্টার করা, আবার মুন্সিগিরিতে আমি একটা ছোট্ট ক্যামিও রোল করি।”

তিনটি ভিন্ন কাজে বর্ষণ নিজেকে তৈরি করছিলেন বলে জানিয়েছেন।

তখনকার আলোচনা-সমালোচনার চাপ কীভাবে সামলেছেন জানতে চাইলে বর্ষণ বলেন, "আমি আসলে আমার প্রথম সমালোচক। আর যখন দেখি যেই সমালোচনাগুলো পজিটিভ, আমার জন্য দরকার ছিল, সেটাকে আমি খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করি। আবার দেখা যায় কী, উপযুক্ত জিনিসটাকে সমালোচনা না করে এমন একটা বিষয় নিয়ে সমালোচনা করছে যেটার আসলে প্রয়োজন নাই, তখন বুঝে এটা ইগনোর করি।"

অভিনয়ে আসার আগের ব্যক্তি বর্ষণ নিয়ে তার মন্তব্য, তিনি ‘খুবই বোহেমিয়ান’ ছিলেন। তবে অভিনয়ের কাজটা যেহেতু অনেককে নিয়ে সামলাতে হয়, তাই এখানে নিষ্ঠাবান হওয়া ছাড়া উপায় নেই বলেও মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গ কাইজার

ওটিটিতে তানিম নূরের ‘কাইজার’ এ খলচরিত্রে মোক্তার মাহমুদ জাফরি চরিত্রটির মাধ্যমে বর্ষণের জনপ্রিয়তায় গতি আসে।

এই চরিত্র হয়ে ওঠার গল্পে বর্ষণ বলেন, "যেভাবে একটা ক্যারেক্টার ডিজাইন করতে হয় একজন আর্টিস্টকে, একজন অ্যাক্টরকে, আমি ওভাবেই করি। অন্যভাবে করার সুযোগ নেই। প্রথমত স্ক্রিপ্ট থেকে যেটা পাই, সেটা ডিরেক্টরের সাথে ডিসকাশন করি।

"সে কীভাবে কথা বলে, কীভাবে মুভমেন্ট করে, স্টাইলটা কী রকম হওয়া উচিত, ওর টোনালিটি কেমন হওয়া উচিত, এগুলো সবকিছু ডিজাইন করার পরে ওই ক্যারেক্টারের একটা ব্যাকগ্রাউন্ড হিস্ট্রি তৈরি করা হয়। এই জার্নিগুলো ঠিকঠাক করার পরে যেভাবে তৈরি করতে হয় একটা ক্যারেক্টার, আমি ওভাবেই তৈরি করেছি। আর পুরোপুরি আসলে এটার ক্রেডিটটা দিতে হয় ডিরেক্টর, প্রডিউসার এবং স্ক্রিপ্ট রাইটারকে।"

'সেন্সরশিপের ধারণাটা একটু ঝামেলার'

সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডকে চিত্রায়িত করার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কিত হয়েছিল বর্ষণ অভিনীত সিনেমা 'অমীমাংসিত'। নানান ধরনের জটিলতা পেরিয়ে দর্শকদের সামনে এসেছিল রায়হান রাফী পরিচালিত সিনেমাটি।

সেন্সর বোর্ডের এই জটিলতায় অভিনয়শিল্পীর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয় কী না প্রশ্নে বর্ষণ বলেন, "সবকিছুর একটা টাইমলাইন থাকে। তারপর ওই টাইমটা চলে গেলে, পরে রিলিজ হলে আর ওই মজাটা আর থাকে না।

"আর সেন্সরশিপের ধারণাটা একটু ঝামেলার। আমাদের দেশে আপনি অনেক কিছু দেখাতে পারবেন না। আমাদের দেশে সবসময় বলতে হবে যে পুলিশ ভালো, আমাদের দেশে অনেকগুলো সংস্থা এরা খুবই ভালো, এরা খারাপ, এদের কিছু যদি ডার্ক সাইড থাকে এটা আপনি দেখাতে পারবেন না। একদম কম্প্রোমাইজ করে আপনাকে বানাতে হবে। আপনার যদি ইচ্ছে থাকে আপনি যেটা বলতে চান ওটা বানাবেন, দেশে আপনি রিলিজই দিতে পারবেন না।”

দর্শকের মান তৈরি করার দায়িত্ব নির্মাতার মন্তব্য করে বর্ষণ বলেন, “নির্মাতারা যদি ভাবে যে দর্শক কী খায় সেটা আমি দেখাবো, তাহলে কিন্তু দর্শকদের রুচির আর পরিবর্তন হবে না। একজন নির্মাতাই নতুন নতুন আইডিয়া, নতুন নতুন ভাবনা দিয়ে দর্শকদের স্ট্যান্ডার্ডকে সমৃদ্ধ করবে, ঋদ্ধ করবে।

"যখন দর্শককে আপনি আসলে একটা লিমিটেড সোর্সের মধ্যে, লিমিটেড জায়গার মধ্যে আপনি আটকে দিচ্ছেন, ও তো ক্রিয়েশনের জায়গায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।"

টেলিভিশন নাটক, সিরিজ ও ওটিটি নিয়ে ভাবনা

কথায় কথায় বর্ষণ বলেন, একজন পেশাদার অভিনেতা হিসেবে সব প্ল্যাটফর্মেই কাজ করতে তিনি ইচ্ছুক।

“যদি গল্প এবং চরিত্র পছন্দ হয়, তবে কাজের মাধ্যম নিয়ে কোনো আপত্তি থাকে না। তাছাড়া ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে নাটকগুলো থেকে যায়, যা দর্শক বহু বছর পরেও খুঁজে দেখতে পারেন। তাই টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।"

বর্ষণ সম্প্রতি শেষ করেছেন ওয়েব ফিল্ম 'সেপারেশন'। যা পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষ করে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বা মঞ্চের আলোর বাইরের মানুষটা কেমন জানতে চাইলে বর্ষণের সংক্ষিপ্ত উত্তর, "খুব সাধারণ। খুব সাধারণ।"

‘সম্ভবত মিউজিশিয়ান হতাম’

আড্ডার শেষ ভাগে ছিল ‘ঝটপট প্রশ্নোত্তর’ পর্বে।

এখানে বর্ষণের কাছে প্রথম প্রশ্ন সবচেয়ে স্বস্তির মাধ্যম কোনটি? বলে তিনি বলেন, ‘সিনেমা’।"

দেশে বা দেশের বাইরে দেখা সেরা খলনায়ক কে? বর্ষণের উত্তর, ‘অমরিশ পুরী।"

ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কঠিন সমালোচনা কার কাছ থেকে পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আছে, আমার কিছু কাছের মানুষই আছে, যাদের সমালোচনা আমি শুনে অভ্যস্ত।"

এমন কোনো চরিত্র আছে, যা দেখে মনে আফসোস জাগে, কেন এমন কাজ আপনার করা হল না? বর্ষণ বলেন, ‘অসংখ্য সিনেমা আছে’।

পরিচালকের কঠোর নির্দেশ মেনে চলা নাকি নিজের মত করা-কোনটায় বেশি মজা পান জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি আসলে ব্যালেন্স করতে পছন্দ করি। কারণ আমি হয়ত বা একভাবে ডিজাইন করেছি ঠিক, কিন্তু দিনশেষে ছবিটা তো পরিচালকের, কনটেন্টটা পরিচালকের, উনি আসলে কী চায়।"

ঢাকা শহরকে এক শব্দে সংজ্ঞায়িত করুন। বর্ষণ বলেন, "ঢাকা আমার খুব প্রিয় একটা শহর। ঢাকা অনেক উদার একটা শহর। বাংলাদেশে এত উদার শহর আর নাই। ঢাকা রিসিভ করতে পারে।"

অভিনেতা না হলে কী হতেন জানতে চাইলে অভিনেতার জবাব, ‘সম্ভবত মিউজিশিয়ান হতাম’।

প্রেম, ক্যারিয়ার নাকি মানসিক শান্তি- জীবনের 'বর্তমান' কোনটি? বর্ষণ হেসে উত্তর দেন, ‘তিনটই বর্তমান’।