Published : 27 Jan 2026, 07:47 PM
দেশের প্রেক্ষাগৃহ যখন নতুন সিনেমার সংকটে ধুঁকছে, তখন পুরান ঢাকার মাল্টিপ্লেক্স লায়ন সিনেমাস ভরসা খুঁজছে ঢাকাই সিনেমার প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর সিনেমায়।
সপ্তাহজুড়ে এই নায়কের তিনটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নিয়ে ‘ফিরে দেখি সালমান শাহ’ শিরোনামে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে লায়ন সিনেমাস কর্তৃপক্ষ।
প্রদর্শনী শুরু হয়েছে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে, যা চলবে শুক্রবার পর্যন্ত।
সিনেমা হলের কর্ণধার মির্জা আব্দুল খালেক গ্লিটজকে বলেন, বাদল খন্দকারের পরিচালনায় ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ সিনেমার শো চলছে তিনটি; শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘অন্তরে অন্তরে’ সিনেমার শো চলছে দুইটি এবং ছটকু আহমেদের ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ সিনেমারও দুইটি শো চলছে।
কোনো উপলক্ষ্য ছাড়াই সালমান শাহর সিনেমা দেখানোর উদ্যোগ নেওয়ার কারণ জানিয়ে খালেক বলেন, "নতুন তো কোনো সিনেমা নেই। ঈদ পর্যন্ত নেই। এখন সিনেমা নাই কি করব! ভাবলাম সালমান শাহর সিনেমা চালাই। দর্শক যে খুব হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তেমন না তবে নতুন সিনেমা থেকে ভালো চলছে। কোনো প্রচার ছাড়াই দর্শক আসছেন সিনেমা দেখতে।"

সমস্যার কথা তুলে ধরে এই মালিক বলেন, "সালমান শাহ বা অন্য নায়কদের সিনেমা চালানোর উদ্যোগ যে নিব সেই সুযোগও নেই। আমাদের আগের সিনেমাগুলোর ডিজিটাল প্রিন্ট খুব খারাপ। এইচডি রেজুলেশনে নেওয়া না, যা বড় পর্দায় দেখানোর উপযোগী না।”
সালমান শাহর এই সিনেমাগুলোর প্রিন্ট কোন জায়গা থেকে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফিল্ম আর্কাইভ থেকে সালমান শাহর চারটি সিনেমার ডিজিটাল প্রিন্ট নিয়েছি সেখান থেকেও তিনটি চালাতে হচ্ছে। ঈদ ছাড়া ভালো সিনেমা মুক্তি পাবে না, আমাদের হল তো বন্ধ রাখতে পারি না তাই এই সিনেমাগুলোই চালাচ্ছি।"

চলতি বছরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে একটিমাত্র সিনেমা ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। তবুও সিনেমাটি চলছে শুধুমাত্র স্টার সিনেপ্লেক্সের পাঁচটি শাখায়।
এ মাসের শেষ এবং ফেব্রুয়ারি মাসেও নতুন সিনেমা মুক্তির কোনো প্রচার চলছে না।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের দারিয়াপাড়ায় নানাবাড়িতে জন্ম সালমান শাহর। শৈশবে সংগীতের পাঠ নিয়েছিলেন ছায়ানটে, গেয়েছেন গানও।
বিনোদনজগতে সালমানের যাত্রা শুরু হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে।
সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় নায়িকা মৌসুমীর বিপরীতে প্রথম সিনেমা 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' করে ১৯৯৩ সালে বাজিমাত করে দেন সালমান।

এই সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি উপহার পায় সালমান-মৌসুমী জুটি। তবে সালমানের ক্যারিয়ারের ২৭টি সিনেমার ১৩টির নায়িকাই ছিলেন শাবনূর।
'তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্নেহ’, ‘প্রেম যুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেমপিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’সহ আরো সালমানের আরো কিছু সিনেমা সাড়া তোলে।
সিনেমায় আসার আগেই সামিরা হককে বিয়ে করেছিলেন সাল মান। ১৯৯৬ সালে ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনে সালমান শাহর বাসা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।