নাটক-আড্ডায় রাজশাহীতে হলো 'আনর্ত নাট্যমেলা'

থিয়েটার এক জ্যামিতিক জীবন বহুকোণে হয় তার স্বরূপে সমর্পণ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হয় ‘২য় আনর্ত নাট্যমেলা’।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Jan 2024, 01:51 PM
Updated : 31 Jan 2024, 01:51 PM

নাটক, পালা আর থিয়েটার বিষয়ক আড্ডায় দুইদিন মুখর ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। 

গত সোম ও মঙ্গলবার দুই দিনব্যাপি নাট্যমেলার আয়োজন করে রহমান রাজু সম্পাদিত থিয়েটার বিষয়ক পত্রিকা ‘আনর্ত’। 

ক্যাম্পাসের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনের চত্বর এবং কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন ও শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার টিএসসিসিতে মেলার বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

‘থিয়েটার এক জ্যামিতিক জীবন বহুকোণে হয় তার স্বরূপে সমর্পণ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হয় ‘২য় আনর্ত নাট্যমেলা’। সহযোগিতায় ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। 

বাংলাদেশ ও ভারতের শতাধিক নাট্যকর্মী অংশ নেন আনর্ত নাট্যমেলার বিভিন্ন পর্বে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় পর্দা নামে মেলার। 

এর আগের দিন সোমবার বেলা ১১টায় নাট্যজন মামুনুর রশিদ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন।

আনর্ত সম্পাদক রহমান রাজু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য বিনিময় করতেই এই উৎসবের আয়োজন। আমরা চেয়েছি, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে থিয়েটার চর্চার সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলোকে একসঙ্গে করতে। নাট্যাঙ্গনের গুণীজনেরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে রাজশাহীতে আসায় আমরা আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। থিয়েটার বিষয়ক ভাবনা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এই উৎসব আমাদের নতুন চিন্তার বিকাশে ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।”

মেলার আয়োজনে ছিল তিনটি বিষয়ভিত্তিক বৈঠক। যার শিরোনাম- ‘নাট্য আড্ডা: নাট্যচর্চায় নাটকীয় স্মৃতিচারণ’, ‘নাট্যচর্চার পঞ্চাশ বছর: কী পেয়েছি, কী পাইনি’, ‘থিয়েটারের কাগজ: যতরকম দায়’।  

এছাড়া থিয়েটারের ‘প্রত্যক্ষ’ ও ‘নেপথ্য’ শাখায় তিনজনকে মেলায় দেওয়া হয় ‘আনর্ত স্বীকৃতি ২০২৪’। যাত্রাশিল্পে অবদানের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন জ্যোৎস্না বিশ্বাস। থিয়েটারের নেপথ্য শাখায় পেয়েছেন বাবুল বিশ্বাস এবং দুই হাজারের বেশি নাটক ও যাত্রাপালায় লাইটের কাজ করা রাজশাহীর আবু তাহের পেয়েছেন এই স্বীকৃতি ।

মেলায় মঞ্চস্থ হয় দেশনাটক প্রযোজিত নাটক ‘পারো’, ভারতের মধ্যমগ্রাম নৃত্যবিতানের প্রযোজনা ‘ওয়ান ফ্রাইডে মর্নিং’, আরণ্যক নাট্যদল প্রযোজিত ‘কহে ফেসবুক’, নাট্যদল অনুস্বর প্রযোজিত ‘মূল্য-অমূল্য’।  

এছাড়া পালানাটক ‘কালিন্দীর গীত’ মঞ্চস্থ করে গাইবান্ধার সারথি থিয়েটার। পথনাটক ‘সুনাগরিকের সন্ধানে’ মঞ্চস্থ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যদল অনুশীলন এবং রাবি নাট্যদল সমকাল মঞ্চস্থ করে ‘বহমান’।

সোমবার উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর। 

দুইদিনের আয়োজনের বিভিন্ন পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, একুশে পদকজয়ী নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, অভিনেতা তারিক আনাম খান, অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক মোহাম্মদ বারী, নাট্যকার মাসুম রেজা, অভিনেতা ও নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু, অভিনেতা ও নির্মাতা গাজী রাকায়েত, অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি, বন্যা মির্জা, অরুণা বিশ্বাস এবং থিয়েটার বিষয়ক বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টরা। ভারত থেকে এসেছিলেন নাট্য গবেষক অংশুমান ভৌমিক, মলয় মিত্র ও সঞ্চয়িতা বসু প্রমুখ।