০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

ছায়ানটে ‘দেশের গানে’ অসাম্প্রদায়িক চেতনার ডাক

এতে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, প্রকৃতি, মাটি ও মানুষের গান শোনান ছয় শিল্পী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Nov 2026, 09:27 PM

Updated : 07 Nov 2026, 09:27 PM

দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে হয়ে গেল ‘দেশের গান’।

‘২৭ ধানমন্ডি- গাই বাংলার গান পর্ষদের’ উদ্যোগে শুক্রবার এ দেশাত্মবোধক গানের আয়োজন করা হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, প্রকৃতি, মাটি ও মানুষের গান শোনান ছয় শিল্পী।

‘একবার যেতে দে না, আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে’ এবং ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’ গান তিনটি শোনান মৌমিতা বড়ুয়া।

মৌসুমি সরকারের কণ্ঠে ছিল ‘ও আমার বাংলা মা তোর’, ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি’ ও ‘ও আমার দেশের মাটি’।

শিল্পী খগেন্দ্রনাথ সরকার গেয়ে শোনান ‘এই না বাংলাদেশের গান গাইতে’, ‘চাষাদের মুটেদের মজুরের’ ও ‘ভেবো না গো মা তোমার ছেলেরা’। বিজন মিস্ত্রি পরিবেশন করেন ‘মাগো ভাবনা কেন’, ‘সাঁঝের বেলায় পাখি ফিরে’ ও ‘একতারা তুই দেশের কথা’।

অন্যদিকে মাহমুদুল হাসানের কণ্ঠে শোনানো হয় ‘মাগো ধন্য হলো জীবন আমার’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’ ও ‘এ দেশ আমার মাটি আমার’।

এছাড়া ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’, ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ ও ‘মোদের গরব মোদের আশা’ গানগুলো পরিবেশন করেন তানজিনা তমা।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের গানকে কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ হিসেবে নয়, বরং জাতির ইতিহাস, আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের অংশ হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

‘২৭ ধানমন্ডি–গাই বাংলার গান পর্ষদ’ এর আহ্বায়ক ফজলুল কবীর তুহিন বলেন, "আমরা শেকড়, ইতিহাস, আত্মপরিচয় এবং দেশপ্রেমকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার দায়বদ্ধতা থেকে এই আয়োজন করেছি। বর্তমান সময়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা চর্চার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।"

নতুন প্রজন্মের কাছে দেশাত্মবোধক গানের অন্তর্নিহিত ইতিহাস ও মুক্তচিন্তার চর্চা ছড়িয়ে দিতে আগামীতেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।