Published : 17 Mar 2025, 09:43 PM
নিজেকে খ্যাতির উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার পরও সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য জনপ্রিয় একজন সংগীত শিল্পী অরিজিৎ সিং। সম্প্রতি একটা কাজের জন্য ভারতীয় এই গায়ক পারিশ্রমিক হাঁকিয়েছেন চড়া দরে।
যা অরিজিতের স্বভাবের সঙ্গে মেলাতে পারছেন না গায়ক বাবুল সুপ্রিয়।
আনন্দবাজারকে বাবুল বলেছেন, মুম্বাইয়ে একটি অডিও সংস্থার বিশেষ উদ্যোগে হিন্দিতে অনুবাদ করা হচ্ছে ৬টি রবীন্দ্রসঙ্গীত। লেখক অমিতাভ ভট্টাচার্যের ওপরে গান অনুবাদের দায়িত্ব পড়েছিল।
হিন্দি ভাষার রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবামে গেয়েছেন শান, বাবুল সুপ্রিয়, শ্রেয়া ঘোষাল, মধুমন্তী। কথা ছিল অরিজিৎ একটি একক এবং দ্বৈত গান গাইবেন এই অ্যালবামে, তাকে তেমনই প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
প্রস্তাব পাওয়ার কিছু দিন পরেই অরিজিতের ম্যানেজার জানিয়েছেন, প্রতিটি গানের জন্য দেড় কোটি টাকা পারিশ্রমিক দিতে হবে গায়ককে।
বাবুল বলেন, “বাকি সঙ্গীতশিল্পীরা ন্যায্য পারিশ্রমিকের চেয়ে অনেক কমে গান গেয়েছেন রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি অনুরাগ থেকে। হাজার হোক রবীন্দ্রনাথের গান। শিকড়ের প্রতি ভালবাসা থেকেই অন্য শিল্পীরা এই কাজে উদ্যোগী হয়েছেন।”
এখানে তাই গানের ব্যবসায়িক দিক নয়, হিন্দিতে নতুন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি বড় হয়ে উঠেছে বলে ভাষ্য বাবুলের।
এই বিষয়ে জানতে অরিজিতের সঙ্গে আনন্দবাজার কর্তৃপক্ষ যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।
বাবুল বলেন, “এটা তো কোনও বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের মত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই কাজের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিটি গানের জন্য দেড় কোটির পারিশ্রমিক চাওয়াটা আমার কাছে খুব অনুচিত। আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমরা নিজেরাও কম পারিশ্রমিকে কাজ করেছি। আমরা তো জানি অরিজিৎ খুব সাদামাটা জীবনযাপন করে। আমরা তাই দেখেছি। সে ক্ষেত্রে এই টাকার অংকের সঙ্গে অরিজিৎকে মেলাতে পারছি না। বিশেষ করে যখন গানগুলি গাওয়ার ব্যাপারে ওর সঙ্গে আমার, শুধু পারিশ্রমিক ছাড়া, আর সব ব্যাপারে ফোনে বিস্তারিত কথা হয়েছিল!”
বাবুল বলেছেন, এই অঙ্কের পারিশ্রমিক শুনে মুম্বাইয়ের যে অডিও সংস্থা এটা রেকর্ড করছে, তার কর্ণধার অরিজিতের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেছেন।
“পাশাপাশি রয়্যালটি ইত্যাদিরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু অরিজিৎকে রাজি করানো যায়নি। আমরা সবাই খুবই আশাহত।”
ছয়টি গানের মধ্যে শ্রেয়া, শান ও মধুমন্তীর গানগুলি রেকর্ড করা হয়েছে।
অরিজিতের আচরণে হাতাশা প্রকাশ করে বাবুল বলেন, “সব বাঙালি গায়ক-গায়িকাকেই হিন্দি সংস্করণটিতে চেয়েছিলাম তাই অমিতাভ ভট্টাচার্যকে দিয়ে গানগুলি লেখানো হয়েছে। খুবই পরিশ্রম করেছি আমরা, যাতে রবীন্দ্রনাথের গানের হিন্দি সংস্করণ করতে গিয়ে মূল গানগুলির ভাব পরিবর্তন না হয়।
“অরিজিৎ খুব সাদামাটাভাবেই জীবনযাপন করে বলে জানি, তার স্কুটারে ঘোরার ছবি, ভিডিও দেখি, তা হলে বাঙালি হিসাবে রবি ঠাকুরের গান গাইতে কী এমন হল সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না। আমাদের কাছে রবীন্দ্রনাথের গান স্বাভাবিক ভাবেই শ্রদ্ধামিশ্রিত! অরিজিৎকে নিয়ে ভাবা গানগুলি ওকে ছাড়া ভাবতেই পারছি না।”
বছরে রোজগার ৭২ কোটি, প্রথম কাজ আলোর মুখ দেখেনি আজও
অরিজিতের গান শুনে হতাশ অনুরাধা
মঞ্চে দাঁড়িয়ে নখ কেন কাটতে গেলেন অরিজিৎ?