Published : 05 Oct 2023, 06:46 PM
কলকাতার 'চালচিত্র' সিনেমায় নায়িকা আছে কি নেই, সেটি দেখননি বাংলাদেশের ছোট পর্দার অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তিনি দেখেছেন সিনেমার গল্প। তাই দেশের বাইরের প্রথম সিনেমাতে খল চরিত্রে তিনি অভিনয় করছেন ‘সানন্দে’।
কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে 'চালচিত্র' সিনেমায় কাজ করার কারণ, ক্যারিয়ার, কলকাতা-ঢাকার কাজের পরিবেশ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন অপূর্ব। খুলে বলেছেন দুই দশকের অভিনয় জীবনে বড় পর্দায় আসার বিলম্বের কারণ এবং সহশিল্পীদের প্রতিও নিজের চিন্তাভাবনার কথা।
প্রতীম ডি গুপ্ত পরিচালিত চালচিত্র সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন রাইমা সেন, টোটা রায় চৌধুরী, স্বস্তিকা দত্ত, অনির্বাণ চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ বোস, শান্তনু মহেশ। এটি একটি থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। এরইমধ্যে এক দফা শুটিং সেরে নিয়েছে সিনেমা টিম। কলকাতার প্রযোজনা সংস্থা ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন এ সিনেমা প্রযোজনা করছে। ‘চালচিত্র’ আগামী বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
কলকাতার প্রথম কাজেই খল চরিত্র করতে কেন রাজি হলেন– এ প্রশ্নে অপূর্ব বলেন, "নাহ! এত বছর পার করে এসে এসব নিয়ে ভাবি না। যারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তারা এভাবে ভাবেন। আসলে আমি গল্পটা দেখি। আর ‘চালচিত্র’ সিনেমার গল্পটা দুর্দান্ত। ব্যস, আর খুব বেশি ভাবনা চিন্তা করিনি। একটা ভালো সিনেমার অংশ হয়ে থাকতে চাই।"
ঢাকার সিনেমায় নিজের অনুপস্থিতির কারণও জানালেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, তিনি ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ নামে একটি সিনেমা করেছিলেন। কিন্তু সেটি নির্ধারিত সময়ের আগে মুক্তি পায়।
"তখন কিছু একটা সমস্যা হয়েছিল। আমি তো সিনেমার লোক না, বুঝতাম না। ওটা একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা জীবনের।”
অপূর্বর ভাষ্য, তিনি মূলত নাটকের জন্যেই এসেছেন বিনোদন জগতে।
"সিনেমার ক্ষেত্রে ব্যাটেবলে মেলেনি। আসলে কখনও আমার গল্প পছন্দ হয়নি, কখনও পারিশ্রমিক পছন্দ হয়নি। সব কিছু মিললে তবেই তো ভাল কাজ হয়। সেটি আগে হয়ে ওঠেনি বলেই দেরি হয়েছে।"
একজন 'রোমান্টিক হিরোর' বড় পর্দায় এতদিন সুযোগ মেলেনি ভাবলে আক্ষেপ হয় কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন "একজন অভিনেতার দরকার দর্শকের ভালবাসা। সেই বিষয়ে আমি খুব সৌভাগ্যবান। বহু দর্শকের ভালবাসা পেয়েছি ও পেয়ে যাচ্ছি। আমার কাছে কোনো পর্দার গুরুত্ব কম অথবা বেশি নয়। সব কাজেই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।"
ক্যারিয়ার শুরু কীভাবে, সেই গল্পে অপূর্ব জানান, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেখান থেকে বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার সুযোগ মিলেছিল তার ২০ বছর আগে। আর সেই সুযোগ এসেছিল নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর মাধ্যমে। পরে অভিনেতা ও নির্মাতা গাজি রাকায়েত তাকে নাটকে নিয়ে আসেন।
প্রথম দিকে অভিনয় করার ব্যাপারে একেবারেই 'আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না' জানিয়ে অপূর্ব বলেছেন গাজী রাকায়েতই তাকে সাহস আর মনোবল যুগিয়েছেন।
দেশে নারী সহশিল্পীদের মধ্যে তারিন জাহানকে সর্বোচ্চ নম্বর দিয়েছেন অপূর্ব। এছাড়া মেহজাবিন চৌধুরীর সঙ্গে তার কাজ ‘সাবলীল’ বলে তার ধারণা। তবে কলাকাতার কোন নায়িকার সঙ্গে জুটি বাঁধতে চান– সেই প্রশ্নে অপূর্ব বলেছেন, এটা এক কথায় চিন্তা করে বলা ‘একটু শক্ত'।
শাকিব খানকে নিয়ে অপূর্ব বলেন, " তিনি সুপারস্টার। এত বছর ধরে একটা ইন্ডাস্ট্রিকে ধরে রাখতে দম লাগে। সেই সম্মান তার প্রাপ্য। কেউ কারও থেকে কম বা বেশি নয়। সবার জীবনে উত্থান-পতন থাকে। আজ যে সুপারস্টার, ভবিষ্যতে অন্য কেউ সেই জায়গা নেবে।”
কলাকাতার এখনকার নির্মাতাদের মধ্যে কৌশিক গাঙ্গুলিকে বিশেষ জায়গায় রাখছেন অপূর্ব; তার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছার কথাও বলেছেন।
কলকাতা ও বাংলাদেশে শুটিংয়ের পরিবেশে তফাত কেমন জানতে চাইলে এ অভিনেতা বলেন, " ওখানে আমাকে যতটা সম্মান দেওয়া হয়, এখানেও সেই একই সম্মান ও আন্তরিকতা পেয়েছি। আমাকে সিনেমার অন্য তারকারা বুঝতেই দেননি, আমি বাইরের কেউ। টোটা রায়চৌধুরী চমৎকার মানুষ, অনির্বাণ চক্রবর্তী তো যতই প্রশংসা করি, কম। শান্তনু ভীষণ প্রাণোচ্ছল ছেলে।
" আমি এবং আমাদের দেশ থেকে যারই এসেছেন, তারা সবাই বলেছেন, কলকাতায় কাজ করার অনুভূতিটা হল বাড়িতে কাজ করার মত।”
সবশেষে অপূর্ব বলেন, ঢাকায় তিনি কারও সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। তার ভাষায়, তিনি নিজেই তার 'প্রতিদ্বন্দ্বী'।
[সংবাদটি প্রথমে প্রকাশিত হয়েছে ফেইসবুকে ৪ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে