Published : 03 Feb 2026, 09:47 PM
বলিউডের অনেকের মতো রেস্তোরাঁ ব্যবসায় নাম লেখালেন অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা।
মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নব্বই বছরের পুরনো পর্তুগিজ একটি বাংলোয় ‘স্কারলেট হাউজ’ নামের রেস্তোরাঁ খুলেছেন তিনি।
অন্দরসজ্জায় অভিজাত এই রেস্তোরাঁয় খাবারের দামও বেশ চড়া। মালাইকা নিজে যেমন স্বাস্থ্য সচেতন, রেস্তোরাঁর মেন্যু কার্ডও সাজানো হয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে। মালাইকার এই রেস্তোরাঁয় মসলা খিচুড়ি খেতে খরচ করতে হবে ৫৫০ রুপি, ২০ হাজার ৯০০ রুপিতে মিলবে শ্যাম্পেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘স্কারলেট হাউজ’ এর অর্ধেক মালিকানা মালাইকা ও তার ছেলে আরহান খানের। সঙ্গে আছে রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা ধাভাল উদেশি এবং মালয়া নাগপাল।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অতিথিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এটি।
রেস্তোরাঁয় আমিষ-নিরামিষ সব ধরনের পাশাপাশি রয়েছে অ্যালকোহল ও নন-অ্যালকোহলিক পানীয়। এই রেস্তোরাঁয় যে পানি পাওয়া যায়, সেটাও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা। এক বোতল পানির দাম ৩৫০ রুপি। এই পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে। ক্লান্তি, ত্বকের বলিরেখা দূর করতেও কাজ করবে এই পানি।
অন্দরসজ্জাতেও বিশেষ আকর্ষণ
আড়াই হাজার বর্গফুটের এই রেস্তোরাঁর অন্দরসজ্জায় রয়েছে পুরোনো দিনের নান্দনিক নকশা ও স্নিগ্ধ সাজসজ্জায়। কফি বার, ওয়াইন রুম ও ডাইনিং স্পেসসহ আলাদা আলাদা পরিসরে সাজানো হয়েছে কক্ষগুলো।
সম্প্রতি স্থাপত্য বিষয়ক ম্যাগাজিন আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেস্তোরাঁর সাজসজ্জা নিয়ে মালাইকা বলেন, “শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি ক্যাফে গড়ে তোলার ছোট্ট ভাবনা থেকে সবকিছুর শুরু। আমরা এই জায়গাটি দেখতে গিয়েছিলাম, প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যাই। বান্দ্রার আঁকাবাঁকা গলিতে থাকা এই লাল রঙের পর্তুগিজ স্থাপনাটির সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে। দৃশ্যগত ও অনুভূতির দিক থেকে এটি আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
“আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এখানে অতিথিদের শান্ত ও উষ্ণ বিলাসিতা অনুভব করানো। যেন অতিথি একবার ঢুকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে পারেন। আমরা এখানে সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত সব দেখভাল করি।”
হাইড্রেশন বার
মালাইকা তার ‘স্কারলেট হাউজে’ ভারতের প্রথম হাইড্রেশন বার চালু করেছেন। এখানে ক্লান্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকের নিস্তেজতা, পুনরুদ্ধারসহ নানা সমস্যাকে লক্ষ্য করে বিশেষ পানীয় ও স্মুদি পরিবেশন করা হয়।
অ্যালকোহল পান করার পর ক্লান্তি কমানোর পানি ও বার্ধক্যরোধী পানীয় পাওয়া যায় মাত্র ৩৫০ রুপিতে। এছাড়াও হেলদি হেয়ার জুস (বিটরুট, কোকম, আনার, তরমুজ, কারি লিফস ও লেবু দিয়ে) ৪৫০ রুপিতে পাওয়া যায়। নন-অ্যালকোহলিক পানীয়র দাম ৬৫০-৭০০ রুপি। অন্যদিকে অ্যালকোহলিক ড্রিঙ্কের মেন্যুতে রয়েছে ককটেল ও শ্যাম্পেন।
রেস্তোরাঁটির খাবারের মেনুতে পরিচিত স্বাদের আরামদায়ক খাবার থেকে আধুনিক ও রুচিশীল পদের সমাহার রয়েছে। ১০০ আসনবিশিষ্ট রেস্তোরাঁয় ৫৫০ রুপিতে মসলা খিচুড়ি, ৬২৫ রুপিতে অ্যাভোকাডো টোস্ট এবং ৭২০ রুপিতে ভেজিটেরিয়ান ফিগ ও বুরাটা ব্লিস সালাদ পাওয়া যায়। হোয়াইট বাটার চিকেনের দাম রাখা হয়েছে ৭৫০ রুপি।
ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে মালাইকা বলেছেন, “খাবারগুলো আমার রান্না ও ভ্রমণের সময় আমি যা খেতে ভালোবাসি তার থেকেই অনুপ্রাণিত। আমার রেস্তোরাঁর দলের সবাই বলেছে এটি ‘মালার বিশেষজ্ঞ’ নামে হওয়া উচিত। তারা একটি ককটেল মেন্যু তৈরি করেছে, যা মজার, চিন্তা করার মতো এবং প্রতিটি চুমুকে রয়েছে গল্প। এছাড়া আমাদের দেশে প্রথম হাইড্রেশন বারও এখানে রয়েছে, যা অবশ্যই দেখার মত।”
মালাইকার এই রেস্তোরাঁয় প্রায়ই ভিড় জমান বলিউড তারকারা। কারিনা কাপুর খান, কারিশমা কাপুর, কাজলসহ অনেককেই সেখানে দেখা যায়।