Published : 27 May 2026, 10:50 PM
বছরজুড়ে কমবেশি সিনেমা মুক্তি পেলেও ঈদ এলেই সিনেমা মুক্তির জোয়ার আসে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে। রোজার ঈদে পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেলেও কোরবানির ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তার দ্বিগুণ।
ফলে দেশের হল সংকটের মধ্যে সিনেমার সংখ্যা বেশি হওয়ায় হল বরাদ্দের টানাপোড়েনে পড়ছে সিনেমাগুলো।
এবার ঈদে চার বছর পর 'হাওয়া' সিনেমার নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন ফিরছেন 'রইদ' নিয়ে, শাকিব খান আসছেন রোমান্টিক মিউজিক্যাল ড্রামা 'রকস্টার' নিয়ে।
সাত বছর পর একই ফ্রেমে দেখা যাবে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিমকে। জীবনানন্দ দাশের কবিতা থেকে পর্দায় আসছেন 'বনলতা সেন'; কাজী আনোয়ার হোসেনের জনপ্রিয় চরিত্র নিয়ে মুক্তি পাচ্ছে 'মাসুদ রানা'।
থ্রিলার সিনেমা 'পিনিক' থেকে এই তালিকায় আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রাজনীতি নিয়ে 'দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল' এবং বদিউল আলম খোকনের 'তছনছ' ও 'অফিসার' মিলিয়ে এই ঈদে পর্দায় ভিড় করছে নয়টি সিনেমা। ঈদের এই সিনেমাগুলো নিয়েই গ্লিটজের এই প্রতিবেদন।
সুমন ফিরছেন 'রইদ' নিয়ে
'হাওয়া' খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন ‘রইদ’ সিনেমা দিয়ে চার বছর পর প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন। সিনেপ্লেক্সের পাশাপাশি কিছু একক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
‘রইদ’ নিয়ে নিয়ে প্রত্যাশা কেমন প্রশ্নে নিয়ে সুমন গ্লিটজকে বলেন, "আমার প্রত্যাশা নেই, দর্শকই বলবে সিনেমা কেমন হয়েছে। তাদের জন্যই তো সিনেমা বানানো। তারা কীভাবে দেখছেন, কতটা গ্রহণ করছেন, কী অনুভব করছেন সেই ফিডব্যাকই হবে 'রইদ' সিনেমার এর আসল মূল্যায়ন।"
সুমন বলেন, "আমার প্রথম সিনেমা দর্শক যেভাবে গ্রহণ করেছেন দ্বিতীয় সিনেমা হিসেবেও যাদের 'হাওয়া' ভালো লেগেছে তারা 'রইদ'ও দেখবেন।"
'রইদ’ সিনেমার চিত্রনাট্য সাদু, তার মানসিকভাবে অসুস্থ স্ত্রী এবং তাদের জীবনযাপন ঘিরে। নির্জন এক জায়গায় বসবাস করেন এই দম্পতি। স্ত্রী সুস্থ না হওয়ায় তার কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন সাধু। সাধু বেশ কয়েকবার তার স্ত্রীকে ফেলে আসেন এমন জায়গায়, যেখান থেকে তিনি যেন আর ফিরে না আসেন।
কিন্তু সাধুর স্ত্রী শেষ পর্যন্ত ঠিক বাড়ি ফিরে আসেন।
চিত্রনাট্যে দেখানো হয়েছে, বাড়ির তালগাছ থেকে একটা করে ফল পড়ে এবং সাধুর স্ত্রী ফিরে আসে। হাজার বছরের পুরোনো আখ্যান অ্যাডাম ও ইভের কাহিনী বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে সিনেমায় তুলে ধরেছেন নির্মাতা সুমন।
গেল বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশ করা হয় সিনেমাটির ট্রেইলার। দুই মিনিট ২০ সেকেন্ডের ট্রেইলারেও উঠে এসেছে এসব দৃশ্য।
সিনেমাটি তৈরির পেছনের ভাবনা ও গল্প নিয়ে সুমন বলেছিলেন, "সাদু, তার পাগল স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশের তালগাছকে ঘিরে আবর্তিত এই গল্পে আমরা আদতে হাজার বছরের পুরোনো আখ্যানকে বর্তমানে পুনর্নির্মাণ করেছি। তবে সময়ের বর্তমানে নয়, বরং অনুভূতির বর্তমানে। এই সিনেমার প্রতিটি স্তরে জড়িয়ে আছে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের দেখা গ্রামীণ বাংলার আবহ।"
সিনেমায় সাধু চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও তার স্ত্রীর চরিত্রে নাজিফা তুষি। এতে আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়াসমিন রিয়াদসহ আরও অনেকে।
‘রইদ’ সিনেমার গল্প লিখেছেন সুমন ও সেলিনা বানু মনি। চিত্রনাট্য লিখেছেন নির্মাতা, জাহিন ফারুক আমিন, সিদ্দিক আহমেদ এবং সুকর্ণ শাহেদ ধীমান। আর প্রযোজনা করছে বঙ্গ।
সিনেমার তিনটি গান 'রইদে আইলা গা জুড়াইতে', 'মন ছাড়া কি মনের মানুষ রয়', 'রহে না' প্রকাশ্যে এসেছে।
মাল্টিপ্লেক্স 'বনলতা সেন'
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কিংবদন্তী চরিত্র 'বনলতা সেন' আসছেন চলচ্চিত্রের পর্দায়। নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের পরিচালনায় ‘বনলতা সেন’ কেবল মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে।
জীবনানন্দের কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মৌলিক গল্পের এই সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন পরিচালক নিজেই।
সিনেমাটি নিয়ে উজ্জ্বল বলেন, "আমার সিনেমাটি যেহেতু ভিন্নধর্মী, ট্রেইলার দেখে সবাই বেশ প্রশংসা করছেন। আমার প্রত্যাশা তেমন নেই, কারণ আমি আনন্দের জন্য কাজ করি, কাজটার প্রতি সৎ থাকি, অন্য সিনেমার ভিড়ে এই সিনেমাটি দর্শকদের চোখের একটু শান্তি দিবে এই বিশ্বাস রাখি।"
কবিতা থেকে সিনেমা নির্মাণের উদ্দেশ্য জানিয়ে এই পরিচালক বলেন, “আমার সব কাজে শিল্পচর্চার একটা প্রভাব আছে। জীবনানন্দ দাশ যত বড় মাপের কবি তাকে নিয়ে কিন্তু দুই বাংলায় তেমন কাজ হয়নি। আগে যেরকম শিল্প সাহিত্য নিয়ে কাজ হত এখন সেটাও কমে গিয়েছে।”
কবিকে শ্রদ্ধা জানাতেই কেবল সিনেমাটি বানাতে হাত দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক উজ্জ্বল।
তার কথায়, “যদি এই সিনেমাটি বাংলা চলচ্চিত্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র হয়ে উঠার যোগ্যতা অর্জন করে থাকে তাহলেই সার্থক হব।"
সিনেমার গল্প নিয়ে উজ্জ্বল বলেন, “এটা মৌলিক গল্প, যা কবিতার অন্বেষণ নিয়ে। কাব্যের মূল সুরকে ঠিক রেখে এক অন্বেষণের গল্প বলবে সিনেমাটি।
উজ্জ্বলের ভাষ্য, “বনলতা সেনকে কেউ দেখেনি৷ বাংলা ভাষায় সর্বাধিক পঠিত কবিতা এটি। এই চরিত্রটাই যেন একটা মিথ রয়ে গিয়েছে। বনলতা সেনকে দেখার জন্য আমাদের ব্যক্তিগত যেই বাসনা সেটা নিয়েই এই গল্প।”
সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা, খায়রুল বাসার, সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রুপন্তী আকীদ, শরিফ সিরাজ, সুমাইয়া খুশিসহ অনেকে।
নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে হাত পাকানো উজ্জ্বলের প্রথম চলচ্চিত্র ‘উনপঞ্চাশ বাতাস’।সিনেমাটি ২০২০ সালের শেষ দিকে মুক্তি পায়।
শাকিব খানের ‘রকস্টার’
ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান এবার পর্দায় আসছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে। রোমান্টিক মিউজিক্যাল ড্রামা 'রকস্টার' সিনেমায় দেখা যাবে তাকে।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো; চিত্রনাট্য করেছেন নুসরাত মাটি। সংলাপ লিখেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়া।
সিনেমার চিত্রনাট্যে দেখাবে, তারকাখ্যাতির চাপ, ভালোবাসা, একাকিত্ব আর সম্পর্কের জটিল সমীকরণ মিলিয়ে এই রকস্টারের উত্থান-পতনের গল্পই বলবে সিনেমাটি।
'রকস্টার' এ শাকিব খানের বিপরীতে প্রধান চরিত্রে রয়েছেন সাবিলা নূর। পাশাপাশি রয়েছেন তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েক।
এই সিনেমার টিজারে এই তিন নারীকেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা গেছে। তাদের ঘিরে রকস্টারের জীবনে কী ঘটতে যাচ্ছে সেটিই দেখাবে সিনেমাটি।
'রকস্টার'-এর স্ট্রিমিং পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে চরকি। অফিশিয়াল মিউজিক পার্টনার এসভিএফ আলফা–আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড। সিনেমার দুইটি গান ‘পিরিতি’, 'আমাকে উড়িয়ে দাও' প্রকাশ্যে এসেছে।
শুভ ও মিমের 'মালিক'
অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা নিয়ে সাত বছর পর জুটি হয়ে প্রেক্ষাগৃহে আসছে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম। সিনেমার নাম ‘মালিক’।
এই ঈদে বেশ প্রস্তুতি নিয়েই সিনেমাটি মুক্তি দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সিনেমার পরিচালক সাইফ চন্দন।
অ্যাকশন ঘরানার এই সিনেমার চিত্রনাট্যে, এক জেদি মানুষের প্রতিশোধের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। যে মায়ের সম্মান ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর এক চরিত্রে পরিণত হয়।
সাইফ চন্দন বলেন, “অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা হলেও এতে একটি শক্ত গল্প আছে। অভিনয়শিল্পীরা ভালো কাজ করেছেন।"
সোমবার প্রকাশ্যে এসেছে সিনেমার আইটেম সং 'গুলগুলি পিঠা' । এতে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতশিল্পী মিলা ও প্রতীক হাসান।
জাহিদ জুয়েলের 'পিনিক'
রহস্য-রোমাঞ্চ ও মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার সিনেমা 'পিনিক' নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে আসছে নির্মাতা জাহিদ জুয়েল। সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী ও আদর আজাদ।
সিনেমাটি নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে নির্মাতা জাহিদ জুয়েল বলেন, “সিনেমা নির্মাণের পর একজন পরিচালকের প্রত্যাশা থাকে দর্শক সেটি ভালোভাবে গ্রহণ করবেন। আমারও বিশ্বাস, দর্শক সিনেমাটি পছন্দ করবেন।”
অনেক সিনেমার ভিড়ে মুক্তি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে কিনা প্রশ্নে জুয়েল বলে,"চ্যালেঞ্জ তো অনেক। বিশেষ করে আমি নতুন নির্মাতা হওয়ায় পুরো বিষয়টাই আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। এর আগে কখনো এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাইনি। সিনেমা মুক্তি, হল ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রতিটি বিষয়ই নতুন করে শিখতে হচ্ছে।”
প্রতিশোধ ও পাল্টা প্রতিশোধের গল্পে বোনা এই সিনেমায় অ্যাকশন, রোমান্স ও সাসপেন্স একসঙ্গে রাখা হয়েছে।
সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতার ভাষ্য, "সিনেমার প্রায় সব চরিত্রই নেতিবাচক। চিত্রনাট্য দর্শকদের একটা ঘোরের জগতে নিয়ে যাবে।"
এটি জাহিদ জুয়েলের প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র। শুটিং হয়েছে ২০২৪ সালে কক্সবাজার সদর ও রামুতে।
বুবলী ও আদর ছাড়াও সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলী রাজ, ফজলুর রহমান বাবু, সমু চৌধুরী, আজাদ আবুল কালাম, শিমুল খান, মোমেনা চৌধুরী এবং নবাগত অভিনেত্রী কেয়া আল জান্নাহ।
সিনেমায় 'চুম্মা' নামের এক আইটেম সং প্রকাশ হয়েছে; গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আকাশ ও তৃষা চ্যাটার্জী।
গোয়েন্দা ও স্পাই সিনেমা 'মাসুদ রানা'
জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা ও স্পাই চরিত্র 'মাসুদ রানা' অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা 'মাসুদ রানা'।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। 'মাসুদ রানা' চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা। তার সঙ্গে রয়েছেন আবন্তিকা রহমান ও সৈয়দা তিথি অমনি। তিনজন অভিনয়শিল্পীর জন্যই এটি প্রথম চলচ্চিত্র।
সিনেমাটি প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়া।
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের জনপ্রিয় 'মাসুদ রানা' সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি উৎসর্গ করা হয়েছে লেখককেই।
সিনেমাটি নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে আব্দুল আজিজ বলেন, "কাজী আনোয়ার হোসেন স্যারের মাসুদ রানা অবলম্বনে সিনেমা। নাম শুনেই তো সিনেমাটি দেখতে হলে আসবেন দর্শক।"
চলচ্চিত্রাঙ্গনে নতুন হিসেবে দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাসুদ চরিত্রের অভিনেতা রাসেল রানা বলেন, "আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে সিনেমাটি করার চেষ্টা করেছি। দর্শকদের বলব, হলে এসে দেখে যান নতুন এই ছেলেমেয়েগুলো কেমন করেছে। দর্শকরা নিরাশ হবেন না, এই প্রত্যাশা রাখছি।"
সিনেমায় 'তোমার নামে লিখে দিব পুরো বাংলাদেশ' নামের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতসশিল্পী রাকা প্রপি ও ইমরান মাহমুদুল।
হল না পেলেও বিকল্পভাবে আসবে 'দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল'

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কালচার ও ছাত্র রাজনীতির বাস্তব চিত্রকে কেন্দ্র করে 'দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল' নামের যে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছিল, সেটি মুক্তি পাচ্ছে।
ঈদে মুক্তির ঘোষণা দিলেও এখনো সব কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সিনেমার নির্মাতা আকাশ হক।
একসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমা মুক্তি পাওয়ার কারণে হল বরাদ্দ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
নির্মাতা বলেন, "আমরা ঘোষণা দিয়েছি যেহেতু ঈদে রিলিজ দেব। প্রিপারেশন নিচ্ছি। তবে এখনো সব কনফার্ম করতে পারিনি। এই বছর অনেকগুলো সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাই প্রথম দিন না পেলেও যেকোনো এক সময় অর্থাৎ মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা যে কোনো সিনেমা হলে মুক্তি দিতে পারব।"
হল না পেলে বিকল্প পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, "একেবারে বেশি সমস্যা হলে আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন দূতাবাসের কথা হয়েছে। তাদের অডিটোরিয়াম ব্যবহার করতে পারব। তবে আমরা একটু ধৈর্য ধরে দেখতে চাই।"
সিনেমাটি মুক্তি দিতে ঈদকে বেছে নেওয়ার কারণ কি প্রশ্নে আকাশ বলেন, "এটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম। শুধু সিনেমা বানাতে যত টাকা লাগবে অত টাকাই সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্য সময় রিলিজ দিলে শুধু সিনেমার অস্তিত্ব জানান দিতেই যে পরিমাণ মার্কেটিং খরচ লাগত, সেটা দিয়ে আরেকটা সিনেমা বানানো যাবে। ঈদের সময় সিনেমা মুক্তি নিয়েই একটা আলোচনা থাকে। আমাদের যেহেতু বিনিয়োগকারী নিয়ে তাই এই ঈদের সময়ের মনোযোগ পেতেই সিনেমাটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া।
প্রত্যাশার কথা জানিয়ে নির্মাতা বলেন, "সিনেমা ভালো হলে দর্শক ঠিকই খুঁজে নেবে। এরকম ঘটনা এর আগেও বাংলাদেশে ঘটেছে। আমরা সেই প্রত্যাশা নিয়েই আছি।"
বদিউল আলম খোকনের দুই সিনেমা
ঈদে আসছে নির্মাতা বদিউল আলম খোকন পরিচালিত দুইটি সিনেমা 'তছনছ' ও 'অফিসার'।
'তছনছ' সিনেমায় অভিনয় করেছেন ববি হক, মুন্না খান, মিশা সওদাগর, দীপা খন্দকারসহ আরও অনেকে। ইতোমধ্যে সিনেমাটির টিজার ও একটি গান প্রকাশ হয়েছে।
অফিসার সিনেমার অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি ও ডিএ তায়েব।
বদিউল আলম খোকন বলেন, “‘তছনছ’ ও ‘অফিসার’ দুইটি সিনেমাই ঈদে মুক্তির প্রস্তুতি চলছে। হল চূড়ান্তের কাজ চলছে।"
দুই সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “এখানে আলাদা কোনো কারণ নেই। একজন পরিচালক হিসেবে আমার কাজ সিনেমা নির্মাণ পর্যন্ত। সিনেমা শেষ হওয়ার পর মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রযোজকরাই নেন। বর্তমানে পরিচালকরা চাইলেই সিনেমা মুক্তি বা হল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। প্রযোজকের সিদ্ধান্তের সিনেমা দুইটা মুক্তি পাচ্ছে।”