Published : 02 Feb 2026, 05:10 PM
প্রথমবারের মত গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড পেলেন তিব্বতি বৌদ্ধদের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা।
৯০ বছর বয়সী নির্বাসিত এই ধর্মগুরু তার স্পোকেন ওয়ার্ড অ্যালবাম ‘মেডিটেশন: দ্য রিফ্লেকশন অব হিজ হোলিনেস দ্য দালাই লামা’ এর জন্য সংগীতের সর্বোচ্চ সম্মানজনক এই পুরস্কার পান।
বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো অ্যারিনায় ৬৮তম গ্র্যামির জাঁকালো আসরে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
অ্যালবামটি গ্র্যামির সেরা অডিও বুক, ন্যারেশন এবং স্টোরি টেলিং বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল। ধারা বর্ণনা ও সঙ্গীতের মিশ্রণে শান্তি, সহমর্মিতা আর আশার মূল্যবোধের বাণী ফুটিয়ে তোলার এই অ্যালবামে দালাই লামার সহযোগী হয়েছেন বিখ্যাত সরোদ গুরু আমজাদ আলী খান এবং তার দুই ছেলে আমান আলী বাঙ্গাস ও আয়ান আলী বাঙ্গাস।
তার অডিও বইটিতে রুফাস ওয়েনরাইট এবং ম্যাগি রজার্সের মতো শিল্পীদের উপস্থিতিও আছে।
ক্রিপ্টো অ্যারিনায় আধ্যাত্মিক নেতার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন রুফাস ওয়েনরাইট।
দালাই লামার গ্র্যামি জয়ে ধর্মশালায় নির্বাসিত তিব্বতিরা উচ্ছ্বসিত।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিব্বতের নির্বাসিত পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার দোলমা সেরিং বলেছেন, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ের মাধ্যমে দালাই লামার ‘সার্বজনীন ভাতৃত্ববোধ’ এবং দয়ার বার্তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।
তিনি এএনআইকে বলেন, “শুধু তিব্বতিদের জন্যই নয়, এটি বিশ্ব মানবতার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং আনন্দের একটি বিষয়। তাই গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানাতে চাই।
“এটি অবশ্যই একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম যেখানে তিনি তার সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব এবং সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন।”
পুরস্কার জয়ের পর দালাই লামা এক বার্তায় তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

নিজের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ওই বার্তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, “আমি একে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নয়, বরং আমাদের যৌথ সার্জনীন দায়িত্ব হিসেবে দেখি। আমি বিশ্বাস করি শান্তি, সহমমর্মিতা, পরিবেশের প্রতি আমাদের যত্ন এবং মানবতার উপলব্ধি আট বিলিয়ন মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। আমি কৃতজ্ঞ, গ্র্যামির স্বীকৃতি এই বার্তাগুলোকে আরও ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে।”
চীনের কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে একটি ব্যর্থ বিদ্রোহের পর ১৯৫৯ সালে তিব্বত থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান এখনকার দালাই লামা। এরপর আর ফেরেননি তিনি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী দালাই লামাকে চীন বিচ্ছিন্নতাবাদী মনে করে; বেইজিং তিব্বতি বৌদ্ধধর্মকে নিয়ন্ত্রণেও রাখতে চায়। কিন্তু দালাই লামা ও তার বিপুল সংখ্যক অনুসারী এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত জুলাইয়ে নিজের ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপন অনুষ্ঠানে চতুর্দশ দালাই লামা তার ভক্ত অনুসারীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তিনি পুনর্জন্ম নেবেন এবং তার প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানই তিনি যার শরীরে পুনর্জন্ম নেবেন তাকে শনাক্ত করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখবে।
কিন্তু তিব্বতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ডেপুটি সেক্রেটারি গামা সেদেন ওই সময় বলেছিলেন, দেশের ভেতর অনুসন্ধান চালিয়েই পুনর্জন্ম নেওয়া দালাই লামাকে খুঁজে বের করা হবে এবং এতে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন লাগবে।
তিব্বতি বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে তাদের ঊর্ধ্বতন ধর্মীয় গুরুরা ধর্মীয় পরম্পরা বজায় রাখতে দৈহিক মৃত্যুর পরপরই কোনো না কোনো শিশুর শরীরে পুনর্জন্ম নেন। এখনকার দালাই লামা তিব্বতি বৌদ্ধদের ১৪তম আধ্যাত্মিক গুরু।