লীলাবতী নাগকে নিয়ে তথ্যচিত্রের প্রথম প্রদর্শনী

আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিটরিয়ামে তথ্যচিত্রটি দেখানো হয়।

গ্লিটজ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Nov 2023, 05:18 AM
Updated : 9 Nov 2023, 05:18 AM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী বিপ্লবী লীলাবতী নাগের জীবন ও কর্ম ঘিরে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল’ এর প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিটরিয়ামে বুধবার বিকালে তথ্যচিত্রটি দেখানো হয়। সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনীর আয়োজক ছিল ‘কোয়েস্ট অ্যা হেরিটেজ জার্নি অব বাংলাদেশ’।

তথ্যচিত্রের গবেষণা, স্ক্রিপ্ট, পরিকল্পনা ও প্রযোজনা করেছেন এলিজা বিনতে এলাহী। পরিচালনায় করেন আবু রেজওয়ান নাসির।

লীলাবতী নাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী নারী শিক্ষার্থী। ইংরেজি বিভাগে তার ভর্তির মাধ্যমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষা প্রচলন শুরু হয়। একাধারে তিনি ছিলেন সমাজ সংস্কারক, নারী শিক্ষার প্রচলনকারী, নারীদের স্বাবলম্বী করার কারিগর এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী।

১৯২৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন উপমহাদেশের প্রথম নারী সংগঠন ‘দিপালী সংঘ’। ১৯৩১ সালে প্রকাশ করেন দিপালী সংঘের মুখপত্র ‘জয়শ্রী’। ঢাকা, মৌলভীবাজার ও মানিকগঞ্জে লীলা নাগ প্রতিষ্ঠা করেন প্রায় ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এখন টিকে আছে মাত্র চারটি।

প্রযোজক এলিজা বিনতে এলাহী বলেন, “বিস্মৃতপ্রায় নারীদের নিয়েই কাজ করতে চাই। লীলা নাগের নাম এখন অনেকেই জানে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হিসেবে তাকে অনেকে চেনে। কিন্তু বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লীলাবতী নাগের অবদান আছে।

“তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন, পত্রিকা প্রকাশ করেছেন। এগুলো আলোচনা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। লীলাবতী নাগের সে জীবন ও কর্ম আমরা এ তথ্যচিত্রে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি।”

লীলাবতী নাগকে নিয়ে বেশকিছু গবেষণা, প্রবন্ধ ও বই থাকলেও এটিই প্রথম তথ্যচিত্র বলে জানান এলিজা।

তিনি বলেন, “আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ তথ্যচিত্র তৈরির চেষ্টা করেছি। লীলাবতী নাগের ছেলের সাক্ষাৎকার আছে এখানে। বাংলাদেশ ও কলকাতায় তার স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোয় গিয়ে শুটিং করা হয়েছে। বিপ্লবী ও সংগঠক লীলাবতী নাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে এ তথ্যচিত্রে।”

তথ্যচিত্রের প্রথম প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন চলচ্চিত্রকার ও শিক্ষক মানজারে হাসীন মুরাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নেভিন ফারিদা, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক, লীলানাগ স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খুসরু চৌধুরী, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ইত্তেফাক ও অনন্যা ম্যাগাজিনের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, মানিকগঞ্জের বায়রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এপির ঢাকা ব্যুরো প্রধান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জুলহাস আলম।

অনুষ্ঠানে ‘কোয়েস্ট আ হেরিটেজ জার্নি অব বাংলাদেশ’ এর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগকে, লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদ, মৌলভীবাজার ও লীলা নাগ প্রতিষ্ঠিত বায়রা উচ্চ বিদ্যালয়কে তথ্যচিত্রের বাঁধাই করা পোস্টার উপহার দেওয়া হয়।