১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাবিতে শিক্ষকপুত্রের ‘টেস্ট ড্রাইভ’, গাড়ি উঠে গেল শিক্ষার্থীদের ওপর

তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 06:48 PM

Updated : 13 Oct 2026, 07:01 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এলাকায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় চালকের আসনে থাকা সাদমান সাকিবও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির তৃতীয় বর্ষের এ শিক্ষার্থীর বাবা অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক।

সহকারী প্রক্টর আলী মোহাম্মদ কাওসার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের এক শিক্ষকের ছেলে। তাকে শাহবাগ থানায় দিয়ে আসা হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে দুর্ঘটনার বিষয়ে সাদমান সাকিব বলেন, তিনি বাবার গাড়ি নিয়ে ‘টেস্ট ড্রাইভ’ করতে গিয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে দুর্ঘটনার মুখে পড়েন।

ব্রেক চাপতে গিয়ে ভুল করে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে ফেলেন বলে তার ভাষ্য।

এ বিষয়ে জানতে সাকিবের বাবা অধ্যাপক শহীদুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী হেঁটে যাচ্ছিলেন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের গেইটের সামনে কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় গাড়িটি দ্রুতগতিতে এসে প্রথমে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক জনকে ধাক্কা দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

আহত ছয় শিক্ষার্থী হলেন, জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সাদমান সাকিবকে মারধর করেন এবং গাড়িটি ভাঙচুর করেন। পরে সাকিবকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

প্রক্টর অফিসে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।