১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রেকর্ড ১১৫ বিলিয়ন ডলারে বিদেশি ঋণ

তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ, বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 01:08 AM

Updated : 12 Oct 2026, 01:08 AM

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ১১৫ বিলিয়ন (১১ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ।

এর মধ্যে তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ২০ পয়সা) অনুযায়ী টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১৪ লাখ ১৬ হাজার ৫ ৯০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার বিদেশি ঋণের যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৪৯৮ কোটি ৩০ লাখ (১১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারে।

তিন মাস আগে মার্চ শেষে এই অঙ্ক ছিল ১১ হাজার ৯৩ কোটি (১১০.৯৩ বিলিয়ন) ডলার। ছয় মাস আগে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। আর এক বছর আগে জুন শেষে ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ছয় মাসে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর এক বছরে বেড়েছে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত জুনের শেষে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৫১০ কোটি ডলার। মার্চ শেষে ছিল ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার।

তবে একই সময়ে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ১৪ কোটি ডলার কমে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ডলারে নেমেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জুনের শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের মধ্যে ৮৭ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এর পরিমাণ ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে একই সময়ে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

ঋণদাতার ধরন অনুযায়ী, জুন শেষে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণ ছিল ১০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ ছিল ৫ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার।

মার্চ শেষে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ছিল ২০ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন ডলার। জুন শেষে তা কমে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ, ক্রেতাঋণ (বায়ার্স ক্রেডিট) এবং বাণিজ্যঋণ কমে যাওয়ায় এ খাতের মোট বৈদেশিক ঋণ কমেছে।

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে বেড়েছে সবচেয়ে বেশি

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। ওই সরকারের সময় ২০০৮ সাল শেষে তা বেড়ে হয় ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করে।

এরপর ২০২৪ সালে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলারে।

অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ নেওয়া অব্যাহত রাখে। ফলে ২০২৫ সাল শেষে বিদেশি ঋণ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।