০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ৪৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে: বিশ্ব ব্যাংক

সংস্থাটি বলেছে, অনুকূল জনমিতিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধাকে পুরোপুরি কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 07:24 PM

Updated : 03 Nov 2026, 07:24 PM

বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

সংস্থাটি বলেছে, অনুকূল জনমিতিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধাকে পুরোপুরি কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ।

এর পেছনে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সীমাবদ্ধতা, শ্রমবাজারে নারীর কম অংশগ্রহণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘদিনের ঘাটতি।

বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন।

উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও অনেকের জন্য আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের ৪৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

বিশ্ব ব্যাংকের ২০২৬ সালের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই চিত্র উঠে এসেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার জনমিতিক পরিবর্তন এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। পরে বাংলাদেশ বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের সাধারণত নিয়োগপত্র থাকে না। ফলে চাকরির নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা সীমিত থাকে। নিয়োগকর্তা চাইলে যে কোনো সময় তাদের কাজ থেকে বাদ দিতে পারেন। এ খাতে নির্ধারিত মজুরিকাঠামোও নেই।

আনুষ্ঠানিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতিও ধীর। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে গড়ে কর্মীর সংখ্যা কমেছে। ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি থাকলেও তাদের যথাযথভাবে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা যাচ্ছে না।

আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে হতাশা

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও মোট কর্মসংস্থানের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক। ফলে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বড় অংশ কাঙ্ক্ষিত ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না।

বিশ্ব ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ছোট উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে অনানুষ্ঠানিক খাতের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, বিকল্প বা নিয়মিত চাকরি না পেয়ে তারা এ ধরনের উদ্যোগ শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের অনানুষ্ঠানিক খাত জরিপ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বার্ষিক হার বাংলাদেশে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। ৮২টি উদীয়মান অর্থনীতির দেশের গড় হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের হার ওই দেশগুলোর গড়ের অর্ধেক।

শ্রম-উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম-উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় কম।

এ দুই দেশের পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় শ্রমিকপ্রতি উৎপাদন বাড়াতে পিছিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া পর্যটন ও খাদ্যসংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতিও অত্যন্ত ধীর।

অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে কর্মিসংখ্যা কমাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সম্ভাবনা কতটা কাজে লাগবে, তা নির্ভর করছে এখন দেশটি কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় তার ওপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নতমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, তরুণদের বাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের বাধা দূর করতে হবে।

তিনি বলেন, “বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বার্ধক্যকালীন আয়-নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজও এখনই শুরু করতে হবে। জনসংখ্যার বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে যে বাড়তি অর্থায়নের প্রয়োজন হবে, তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো জরুরি।”

‘সময় ফুরিয়ে আসছে’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামনে জনমিতিক পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময় রয়েছে। আগামী প্রায় দুই দশক দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান অংশকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ আছে।

তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে দ্রুত বাড়তে থাকা বয়স্ক জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৪৫ সালে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। অর্থাৎ জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের হাতে রয়েছে প্রায় দুই দশক।

কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, শ্রমবাজারে নারীর কম অংশগ্রহণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘদিনের ঘাটতি এ সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শহরে চিকিৎসক বেশি ১৮ গুণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষম মানুষের ওপর নির্ভরশীল মানুষের চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার চাহিদাও বাড়বে। কিন্তু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি এখনো দুর্বল।

স্বাস্থ্যসেবায় শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। দেশে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাত্র ২০ শতাংশ সেখানে কর্মরত। বিপরীতে শহরে চিকিৎসকের ঘনত্ব গ্রামের তুলনায় ১৮ গুণ বেশি।

বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার মাত্র ৩৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এ অঞ্চলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির গড় হার ৬২ শতাংশ। এ ছাড়া শিক্ষায় বাংলাদেশের সরকারি বরাদ্দও অত্যন্ত কম।

অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর প্রস্তুতিও দুর্বল। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সেবার সব উপাদান রয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ কেন্দ্রে। অর্থাৎ ৮২ শতাংশ কেন্দ্রের প্রস্তুতি নেই। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম পাওয়া যায় মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ কেন্দ্রে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশে ইনজেকশনযোগ্য ইনসুলিন ও ৩৮ শতাংশে মেটফরমিন পাওয়া যায়। হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান একসঙ্গে রয়েছে ১ শতাংশের কম প্রতিষ্ঠানে।

সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ কম

জনসংখ্যা বয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। কিন্তু এ খাতে বাংলাদেশের ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে এ হার আরও বেশি। অথচ সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়ের মাত্র ২ শতাংশ পায় এই শিশুরা।

প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষার অবস্থাও দুর্বল। বাংলাদেশে সরকারি বয়স্ক ভাতা মাসে ৫০০ টাকা। দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের গড় আয়ের তুলনায় এ ভাতার পরিমাণ মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির কারণে এই ভাতা দারিদ্র্যসীমার তুলনায় অনেক কম।

কর-রাজস্ব আদায়েও বাংলাদেশ উদীয়মান অর্থনীতির অর্ধেকের বেশি দেশের চেয়ে পিছিয়ে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালু হলেও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকারের উল্লেখযোগ্য পেনশন কর্মসূচি নেই। অথচ দেশের অধিকাংশ কর্মীই এ খাতে নিয়োজিত।

বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের চেয়ে শ্রমের জোগান ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তাদের সবার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব না-ও হতে পারে।

এ কারণে আগামী দুই দশককে জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

এ লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো, অসংক্রামক রোগের চিকিৎসাসেবা জোরদার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য আনুষ্ঠানিক অর্থায়ন সহজ করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

প্যানেল আলোচনা

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশ বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনা হয়। এতে আলোচনা করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং বিশ্ব ব্যাংকের রিজিওনাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর জেম মেতে।

বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন। এর আগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব ব্যাংকের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকা লিজেলোটে ওনসর্গ।

দক্ষিণ এশিয়া প্রসঙ্গ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ১১৭ কোটি। এ বিপুল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ সুযোগের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর তা কমতে শুরু করবে।

বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৯ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া বয়স্ক জনগোষ্ঠীনির্ভর অঞ্চলে পরিণত হবে। তখন এ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ২০৫১ সালে।

প্রবৃদ্ধিতে জনমিতিক অবদান কমবে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের অনুপাত বাড়তে থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বছরে গড়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শ্রম-উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বছরে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

“তবে তুলনীয় উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় জনসংখ্যার বার্ধক্য দ্রুতগতিতে ঘটছে। অন্যদিকে, এ অঞ্চলের মাথাপিছু আয়ও তুলনামূলক কম। ফলে উন্নত অর্থনীতির পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই অঞ্চলটিকে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে।”

বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সাল পর্যন্ত জনমিতিক পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বার্ষিক অবদান কমে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াবে। অর্থাৎ কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির যে সুবিধা এত দিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে, ভবিষ্যতে তা অনেকটাই কমে আসবে।

বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো উন্নয়নের তুলনামূলক প্রাথমিক পর্যায়েই দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আরও বেশি ও উন্নতমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে এখনই নীতিগত পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

একই সঙ্গে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বয়স্ক মানুষদের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করা গেলে দ্বিতীয় পর্যায়ের জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জন সম্ভব হবে।”