পাঁচ প্রকল্পে এডিবি দিচ্ছে ১০২ কোটি ডলার

এর মধ্যে ৩৫ কোটি ৮২ লাখ ডলার মিলবে সহজ শর্তে। বাকি ৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলারের জন্য প্রায় ৬ শতাংশ সুদ দিতে হবে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Nov 2023, 12:17 PM
Updated : 28 Nov 2023, 12:17 PM

বাংলাদেশের পাঁচ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১০২ কোটি ৬৪ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

এর মধ্যে ৭২ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এডিবি দেবে মার্কিন ডলারে। বাকি ৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ হিসেবে ২৭ কোটি ৭৮ লাখ ইউরো পাবে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এডিবির মধ্যে পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে মঙ্গলবার।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এসব চুক্তিতে সই করেন ইআরডির নতুন সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিন্টিং।

এক বিজ্ঞপ্তিতে ইআরডি জানায়, এডিবির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৩৫ কোটি ৮২ লাখ ডলার পাওয়া যাবে সহজ শর্ত ও কম সুদের ঋণ হিসেবে। এই ঋণ ৫ বছরের রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে ২ শতাংশ সুদে পরিশোধ করতে হবে।

আর বাকি ৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার কঠিন শর্তের ঋণ। এডিবির অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্স (ওসিআর) তহবিলের আওতায় এই ঋণের জন্য সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (সোফর) সুদহারের সঙ্গে ০.৫ শতাংশ এবং ম্যাচুরিটি চার্জ হিসেবে দিতে হবে ০.১ শতাংশ। সবমিলে এই ঋণের জন্য প্রায় ৬ শতাংশ সুদ দিতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব বাজারে অস্বাভাবিকভাবে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সুদের হার বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এটা ৪ শতাংশের নিচে নেমে থাকত।

ইআরডি জানায়, এডিবি যে পাঁচ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘ভ্যাকসিন, থেরাপেটিকস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড রেগুলারেটরি স্ট্রেংদেনিং’ প্রকল্প।

বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় টিকার ক্রমকর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের একটি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

এ প্রকল্পের জন্য মোট দেওয়া হচ্ছে ৩৩ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। এরমধ্যে ১৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার দেওয়া হবে কম সুদের ঋণ। আর ১৬ কোটি ৮২ লাখ দেওয়া হচ্ছে বেশি সুদের ঋণ।

এই চুক্তির আওতায় অর্থায়নের দ্বিতীয় প্রকল্প হচ্ছে ‘সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন ঢাকা-নর্থওয়েস্ট করিডোর রোড প্রজেক্ট ফেজ-টু’ প্রকল্প। এ প্রকল্পের জন্য দেওয়া হচ্ছে ২৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এ প্রকল্পের জন্যও ঋণ নেওয়া হচ্ছে ওসিআর বা কঠিন শর্তের তহবিল থেকে।

এডিবি এই চুক্তির আওতায় ‘স্মার্ট মিটারিং এনার্জি ইফিসিয়েন্সি ইম্প্রুভমেন্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য দিচ্ছে ২০ কোটি ডলার। এই ঋণও বেশি সুদের তহবিল থেকে নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে। তিতাসের আওতাভুক্ত এলাকায় আবাসিক পর্যায়ে গ্যাসের অপচয় রোধ এবং গ্যাসের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

চুক্তির আওতায় আরেকটি প্রকল্প হচ্ছে- ‘চট্টগ্রাম হিলট্র্যাক্স ইনক্লুসিভ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট আরবান ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন’ প্রকল্প। কম সুদের তহবিল থেকে এ প্রকল্পের জন্য দেওয়া হবে ৯ কোটি ডলার। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও লামা পার্বত্য পৌর এলাকায় টেকসই ও সমন্বিত নিরাপদ পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

চুক্তির সর্বশেষ প্রকল্পটি হচ্ছে- ‘ইম্প্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন’ প্রজেক্ট। এই প্রকল্পে দেওয়া হচ্ছে ১০ কোটি ডলারের কম সুদের ঋণ।

উৎপাদন খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রকল্পটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশর বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করবে।