অর্থবছর ২০২১-২২: সঞ্চয়পত্র বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে

গত ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

শেখ আবু তালেবনিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 July 2022, 06:49 PM
Updated : 31 July 2022, 06:49 PM

সুদ কমানো ও কেনার বেলায় নানা শর্তের কড়াকড়িতে এক বছরে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমেছে; গত ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকায়।

এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমেছে ২২ হাজার কোটি টাকা, শতকরা হারে ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এসময়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাত থেকে মোট ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার।

আর একক মাস হিসেবে গত জুনে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭৪৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকার।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাকছুদা খাতুন জানান, সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ তথ্য রোববার পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরে নতুন করে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এসময়ে সঞ্চয়পত্র ভাঙানো বা তুলে নেওয়ার বিপরীতে গ্রাহককে অর্থ পরিশোধ করা হয় ৮৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা ও মুনাফা পরিশোধ করা হয় ৪০ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কম এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে গত কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি।

এতে সরকারের ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল। এরপর সুদ ভর্তুকি কমিয়ে আনতে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করে সরকার।

এর অংশ হিসেবে মুনাফা কমিয়ে ক্রয় সীমায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কর সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়। এর প্রভাবে বিক্রি কমে আসে।

যদিও সুদহার কমিয়ে আনার পরও সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার এখন সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত, যা ব্যাংকের আমানত সুদহারের চেয়েও অনেক বেশি। বর্তমানে ব্যাংকে আমানতে সুদহার ৬ শতাংশের ঘরে রয়েছে। তবে বিক্রির সীমা আরোপ ও ডেটাবেইজ অনলাইন কমায় একই ব্যক্তির অধিক অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ কমেছে।

তথ্য বলছে, এবারও ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ১৫০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে লাগাম টানতে শুরু করে সরকার। ওই সময়েই প্রথম সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বাধ্যতামূলক করা হয়।

টিআইএন বাধ্যতামূলক ও সঞ্চয়পত্র থেকে মুনাফার উপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

আর ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে একক ব্যক্তি হিসাব, যৌথ ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের উপর সীমা কমিয়ে পুর্ণর্নিধারণ করা হয়।

সর্বশেষ চলতি অর্থবছরে আরও শর্ত জুড়ে দেয় সরকার। এখন থেকে ৫ লাখ টাকার বা ততোধিক পরিমাণের সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে ট্যাক্স রিটার্ন সনদ জমা দিতে হবে।

২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার এ খাত থেকে ঋণ নিয়েছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। এর আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৭ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে নেওয়া হয়েছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।

বিনিয়োগে সব শ্রেণির গ্রাহকের আকর্ষণের শীর্ষে থাকা এ খাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা বিক্রি হয়েছিল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক