দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম দেখতে বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘ দূত
দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অর্জন কীভাবে অক্ষুণ্ন রাখা যায়, তা নিয়ে পরামর্শ দেবেন তিনি।
দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ পর্যবেক্ষণে ১২ দিনের সফরে আগামী ১৭ মে বাংলাদেশে আসছেন চরম দারিদ্র্য ও মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ওলিভিয়ে দে শুটার।
এই সফরে তিনি ঢাকা ও রংপুর বিভাগের কিছু এলাকা ও কক্সবাজারে যাবেন। এসব এলাকার স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান রাইটস স্পেশাল প্রসিজারস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা নিরূপণে দে শুটার বাংলাদেশে শ্রম আইন, স্বাস্থ্যসেবা, গৃহায়ণ ও শিক্ষা ব্যবস্থারি প্রভাব পর্যবেক্ষণ করবেন।
নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, তৈরি পোশাক কর্মী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ যেসকল গোষ্ঠী দারিদ্র্য বৈষম্যের শিকার, তাদের অবস্থাও জানার চেষ্টা করবেন তিনি।
বিবৃতিতে দে শুটার বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কীভাবে এ অর্জন অক্ষুণ্ন রাখা যায় এবং সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সমানভাবে এর সুফল নিশ্চিত করা যায়।
“এ সফরের ফলে আমি ওই বিষয়ে আরও বেশি জানতে পারব। অর্থনৈতিক ও জলবায়ুজনিত অভিঘাতের প্রেক্ষাপটে মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত রাখতে ও সকলের জন্য মানসম্পন্ন জীবনমান নিশ্চিতকরণে সরকার যাতে সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখতে পারে, সেসব বিষয়ে কিছু দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারব।”
দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর শেষে আগামী ২৯ মে বিকালে দে শুটার তার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ জানাতে ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন। এরপর ২০২৪ সালের জুনে তিনি এই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে দেবেন।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে ডিগ্রি ধারী ওলিভিয়ে দে শুটার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। ২০২০ সাল থেকে তিনি চরম দারিদ্র্য ও মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি জাতিসংঘের কমিটি ফর ইকোনমিকস, সোশাল অ্যান্ড কালচারাল রাইটসের সদস্য ছিলেন।
