Published : 20 Mar 2026, 10:07 PM
ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে গতিশীল করার চ্যালেঞ্জের মধ্যে ইরান যুদ্ধ বাড়তি মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের জন্য। এমন প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি নিশ্চিত করতে দুই বিলিয়ন ডলারের বিদেশি অর্থায়ন খুঁজছে বাংলাদেশ সরকার।
এজন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা শুরুর খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ তহবিল পেয়ে যাবেন বলে আশাও করছেন প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা।
ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির অবনতিতে জ্বালানি তেলের দাম চড়ছে; মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বাংলাদেশের গ্যাস আমদানির মূল উৎস বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর পেরিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসা নির্বাচিত বিএনপির সরকার দেশ পরিচালনার প্রথম মাসেই পড়েছে নতুন সংকটের মুখে।
চব্বিশের আন্দোলনে সরকারের পালাবদলের পর অস্থির হয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নতুন সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ যে কারণে বড় ঝটকা হিসেবে সামনে এসেছে। অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি নির্ভর জ্বালানি খাতে সরবরাহ নিশ্চিতে সাশ্রয়ের পথে হাঁটতে হয়েছে সরকারকে।
একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোকে ভবিষ্যৎ ঘাটতি মেটাতে ক্রমেই অস্থির বাজারের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। দূরবর্তী ও বিকল্প বাজার থেকে আমদানির চেষ্টা শুরু হয়েছে। যে কারণে বাড়তি অর্থায়নের প্রয়োজনও পড়ছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর শুক্রবার রয়টার্সকে বলেন, নতুন তহবিল সংগ্রহে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্ব ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ প্রধান উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার।
“তেল ও জ্বালানি খাতে সহায়তার জন্য বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলো থেকে তহবিল পাব বলে ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে।"
বিদ্যমান কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং এডিবির প্রায় ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ২৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি ডলার পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, আইএমএফ নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছিল। তাদের এখন জুলাইয়ের বদলে এখনই তহবিল ছাড় করার জন্য অনুরোধ করা হবে, যাতে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই তা পাওয়া যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হওয়া, দাম বেড়ে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় এ জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, কোনো অবস্থাতেই তেল ও জ্বালানির অর্থপ্রবাহ ব্যাহত হওয়া উচিত নয়। অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তেল ও জ্বালানির উৎস বহুমুখী করা হবে।"
তিনি বলেন, কোনো একটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, নাইজেরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক দাম চড়তে থাকলেও সরকার এ বোঝা গ্রাহকদের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করছে না বলে তুলে ধরেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিক থেকে দেশে বৈশ্বিক দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে প্রতিমাসে সরকারিভাবে নির্ধারিত জ্বালানির দাম সমন্বয় করে।
বেসরকারি খাতের ঋণের পরিবর্তে বহুপক্ষীয় সহায়তার ওপর সরকারের নির্ভর করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, “আমরা জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছি না। আমরা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করব যাতে অর্থনীতিতে কোনো সংকোচন না ঘটে।”