১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

৬ মাস পর ২১ বিলিয়নে রিজার্ভ

এক সপ্তাহের মাথায় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়েছে রির্জাভ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Dec 2024, 11:20 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:27 PM

টানা কমতে থাকা দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ আরও কিছুটা বেড়ে ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত ৩০ জুনের পর সর্বোচ্চ।

রোববার বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুসারে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

রেমিটেন্সের সুবাতাসের ধারা বজায় থাকায় এবং ঋণের অর্থছাড় হওয়ায় এক সপ্তাহের মাথায় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রির্জাভ বাড়ার তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা।

আরও কিছু ঋণের অর্থ ছাড় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে রিজার্ভ বাড়াতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে। এসব কারণেই রিজার্ভ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন।

এর আগে চলতি বছর ৩০ জুন রিজার্ভ ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। এরপর থেকে হিসাব করলে রোববারের রিজার্ভের অঙ্কই সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়ায় ২০ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, যা রোববার শেষে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ঋণের অর্থছাড় হওয়ার পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে রেমিটেন্সেও প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বেড়েছে রপ্তানি আয়ও। আমদানি ব্যয়ও কমেছে আগের চেয়ে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে রিজার্ভে। 

ব্যাংকিং চ্যানেলে চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ২৮ দিনে ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার এসেছে। ২০২৩ সালে একই সময় আসে ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।

আইএমএফের শর্ত মেনে চলতি ডিসেম্বর শেষে নিট রিজার্ভ ১৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

কিন্তু বিপিএম-৬ ও গ্রস হিসাব প্রকাশ করলেও নিট রিজার্ভ কত, তা প্রকাশ করে না বাংলাদেশ ব্যাংক। 

গত নভেম্বরে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মাধ্যমে আমদানি দায় পরিশোধের কারণে রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে যায়।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারীর সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু মহামারী কমে আসার মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি আর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং এরপর ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হলে বেড়ে যায় আমদানি খরচ। এরপর ২০২২ থেকে কমতে থাকে রিজার্ভ।