ভারতীয় ঋণচুক্তি: এক বছরে ছাড় প্রায় ২৪ কোটি ডলার
দুদেশের যৌথ পর্যালোচনা চালুর কারণে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও গতি পেয়েছে ভারতীয় ঋণের অর্থছাড়ের পরিমাণ; যা এক বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ২৪ কোটি ডলার হয়েছে।
ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত রোববার দুপক্ষের উচ্চ পর্যায়ের প্রকল্প পর্যবেক্ষণ কমিটির দ্বিতীয় সভা ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে। এতে বলা হয়, “উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এক বছরে অর্থ বিতরণের গতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই সময়ে কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে উদ্ভূত গুরুতর চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২৩৮ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিতরণ করা হয়েছে।”
বৈঠকে সহ সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।
এলওসির অর্থছাড় ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে একটি উচ্চস্তরের প্রকল্প পর্যবেক্ষণ কমিটিও করেছে উভয় দেশ, গতবছরের জানুয়ারিতে ওই কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে হাই কমিশন জানিয়েছে, ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার এবং এলওসির অধীনে মোট প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ ৭ দশমিক ৮৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
“উভয় পক্ষই অত্যন্ত সন্তুষ্টির সাথে উল্লেখ করেছে যে, ভারতীয় এলওসি কাঠামোর অধীনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত চুক্তিকৃত প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার বিতরণের মাইলফলক কয়েক দিনের মধ্যে অর্জিত হতে চলেছে।”
২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত নমনীয় সুদের এলওসির আওতায় ভারতের সঙ্গে মোট তিন দফায় ৭৮৬ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সই হয়েছে।
প্রথম দফায় ২০১০ সালে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়। ২০১৫ সালের জুনে দ্বিতীয়বার চুক্তি সই হয় আরও ২০০ কোটি ডলারের।
সবশেষ ২০১৭ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় সাড়ে ৪০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়।
প্রথম ঋণচুক্তির সময় শর্ত ছিল, এই ঋণের আওতায় যত প্রকল্প নেওয়া হবে, তা বাস্তবায়নে ৮৫ শতাংশ পণ্য ও সেবা ভারত থেকে আমদানি করতে হবে।
এ শর্তে বাংলাদেশের আপত্তি জানানোর মধ্যে ২০১৪ সালে এ অঙ্ক ৮৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭৫ শতাংশ করা হয়েছিল।
ওই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, নির্মাণকাজের ধরন দেখে কত শতাংশ পণ্য ও সেবা ভারত থেকে আনা হবে, তা প্রকল্প দেখে ঠিক করা হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এখনও কার্যকর হয়নি।
রোববারের বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অর্থ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এবং ভারতীয় হাই কমিশন ও এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক প্রক্রিয়াগত সমস্যাগুলোকে মোকাবেলা করে এবং ভবিষ্যৎ পরামর্শ দিয়ে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নকে আরও ত্বরান্বিত করার জন্য গৃহীত কয়েকটি যৌথ উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম।
উভয় পক্ষ ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অবস্থা পর্যালোচনা করেছে৷
উভয় পক্ষই বৈঠকে বাস্তবায়নের বিষয়গুলোর সব দিক নিয়ে আলোচনা করেছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দ্বারা ভারতীয় এলওসি প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির ব্যাখ্যার মান নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা, প্রকল্প প্রস্তুতি এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) ত্বরান্বিত করা, বিড যোগ্যতার মানদণ্ড যুক্তিযুক্ত করা, বিল প্রক্রিয়াকরণ চক্র সংক্ষিপ্ত ও সরলীকরণ, চূড়ান্ত চুক্তি প্রদান ত্বরান্বিত করা, ভিসা প্রদানের পদ্ধতি সহজীকরণ।
“কারিগরি কমিটি কর্তৃক গ্রহণের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপগুলিও উচ্চ পর্যায়ের কমিটি চিহ্নিত করেছে, যা যথাসময়ে কার্যকর স্তরে উদ্ভুত বিষয়গুলো আলোচনার জন্য বৈঠক করবে।”
