Published : 02 Mar 2026, 10:39 PM
ঋণ পুনঃতফসিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ছাড়ের সুবিধার ফল মিলেছে ডিসেম্বর প্রান্তিকের খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে; আগের প্রান্তিকের চেয়ে এ প্রান্তিকে মন্দ ঋণের পরিমাণ কমেছে।
হালনাগাদ তথ্য বলছে, দেশের ব্যাংক খাতে ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ডিসেম্বর শেষে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।
এর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মোট ঋণের মধ্যে খেলাপির হার ছিল ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ওই সময় খেলাপির পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা।
ব্যাংকার ও বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিলের ছাড় আর সংসদ নির্বাচনের আগে বড় অঙ্কের ঋণ নবায়ন হওয়ায় খেলাপির হার কমেছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে ৯৪ শতাংশই মন্দজনিত বা আদায় অযোগ্য ঋণ।
দেশের ইতিহাসে ২০১৯ সালের মার্চে প্রথমবারের মত খেলাপি ঋণ লাখের ঘর পেরিয়ে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা হয়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে যা বেড়েছে।
চব্বিশের আন্দোলনের পর তা আরও বেড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়ায়। এরপর খেলাপ ঋণ কমাতে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর নীতি সহায়তাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন।
এতে আগের প্রান্তিকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে খেলাপপি ঋণের পরিমাণ কমে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। বিশাল এই অঙ্কের সিংহভাগই ঋণ পুনঃতফসিলজনিত কারণে কমেছে।
এক বছরে বেড়েছে ২ লাখ ১১ হাজার
২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। খেলাপির হার ছিল ২০ দশমিক ২ শতাংশ। বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০১ কোটি টাকা।
এ হিসাবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এক বছরে নিট খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা; ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
২০২৫ সাল জুড়ে নতুন খেলাপি যেমন বেড়েছে, তেমনি পুরনো খেলাপি ঋণ নবায়ন হয়েছে ব্যাংক খাতে।
২০২৫ সাল শেষে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধ্যকতা ছিল ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকার। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো রাখতে পেরেছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা।
প্রভিশন ঘাটতি ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা; অর্থাৎ ৫৬ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপির বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখতে পেরেছে ব্যাংকগুলো। ২০২৪ সালে ৫০ দশমিক ৭৫ শতাংশ খেলাপির বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখতে পেরেছিল ব্যাংকগুলো।