Published : 09 Jun 2026, 08:39 PM
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জ্বালানি খাতে ১০ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তার যে ঘোষণা জাপান সরকার দিয়েছে, সেটির প্রথম ঋণ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
অর্থনৈতিক সহনশীলতা বাড়ানো এবং স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে ঢাকাকে ৩১ কোটি ২০ লাখ ডলার দেবে টোকিও।
মঙ্গলবার জাপানের সঙ্গে সহজ শর্তের এ ঋণ সংক্রান্ত দুটি নথিতে সই করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ঢাকায় জাপান দূতাবাস সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে জরুরি সহায়তার বিষয়ক ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ এ সই করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। ঋণচুক্তিতে সই করেন ঢাকায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাসি জুনকো। ইআরডি সচিব শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বাংলাদেশের পক্ষে দুই নথিতে সই করেন।
ইরান যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরির মধ্যে ১৫ এপ্রিল ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস অনলাইন সামিট’ আয়োজন করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
ওই সম্মেলনে জ্বালানি সংকট মোকাবেলা করতে থাকা এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ‘পাওয়ার এশিয়া’ নামে একটি উদ্যোগ চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি আসে তার কাছ থেকে। জাপানের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোকে এই সহায়তার আওতায় আনার কথা তখন বলেছিল জাপান সরকার।
ওই সম্মেলনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বর্তমানে যে সংকট চলছে, তা মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে অংশ নেন ভারত, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তিমুর-লেস্তে, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়ার সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের সরকারের নতুন উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের প্রথম ঋণ পাওয়ার কথা তুলে ধরে দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এই ঋণের রয়েছে আঞ্চলিক ও কৌশলগত তাৎপর্য। এটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে এজেডইসি প্লাস অনলাইন সামিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির চালু করা ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় প্রথম জাপানি ওডিএ ঋণ প্রকল্প।”
জরুরি সাড়াদানের পাশাপাশি কাঠামোগত সহযোগিতার মাধ্যমে এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি ও সম্পদের সহনশীলতাকে জোরদার করার লক্ষ্যে ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে জাপান সরকার।
জাপান দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই দুই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ) দেবে জাপান, যার আনুমানিক পরিমাণ ৩১২ মিলিয়ন ডলার।
“এডিবির সঙ্গে মিলে সময়োপযোগী এই সহায়তার লক্ষ্য হচ্ছে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে আর্থ-সামাজিক প্রভাব মোকাবেলা করা। যে চ্যালেঞ্জের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবনতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।”
দূতাবাস বলেছে, এই ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি এবং স্থিতিশীল জ্বালানি নিশ্চিতে সহায়তা দেবে জাপান। এসব খাত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংস্কারের গতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে অপরিহার্য।
জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অবিচল অংশীদারত্বের স্পষ্ট প্রতিফলন।
দুদেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আওতায় এবং জাপানের অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ‘মুখ্য অংশীদার’ হিসাবে অভিহিত করেন রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।