Published : 17 Aug 2026, 04:02 PM
আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে YvDK ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ০ হাজার কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বিতরণ করবে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে চলতি অর্থবছরের ‘কৃষি ও পল্লী ঋণ’ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়।
নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, “আগের চেয়ে লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে, যদিও এটি একটু চাপ তৈরি করবে, তারপরও আমরা মনে করছি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব।”
চলতি অর্থবছরের নীতিমালায় বলা হয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং আড়াই একর জমিতে লবণ চাষের ঋণের ক্ষেত্রে ডকুমেন্টেশন ছাড়া অন্য কোনো সেবা ফি নেওয়া যাবে না।
পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে কোনো ধরনের জামানত নেওয়া যাবে না। নারী ও প্রান্তিক কৃষকের ঋণের ক্ষেত্রে জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি বিকল্প জামানত হিসেবে সামাজিক ও দলগত জামানতের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় শিমুলমূল, অশ্বগন্ধা, মিশ্রিদানা, রোজেলা, শতমূল, গাছ আলু ও ব্লুবেরি চাষ এবং ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার উৎপাদনকে কৃষি ঋণের আওতায় আনা হয়েছে।
এ ছাড়া হ্যাচারিতে মাছ ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনও কৃষি ঋণের আওতায় এসেছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রকৃত কৃষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহার করা হবে।
ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের মধ্যে বর্তমানে আড়াই শতাংশ কৃষি ঋণে যাচ্ছে জানিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, “এটি আসলেই কম। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোতে মোট ঋণের চার শতাংশ হবে কৃষি ঋণ বিতরণ।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা, যা ওই অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার ১০৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ওই অর্থবছরে কৃষি ঋণের সুবিধা পেয়েছেন ৩৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৩ জন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে চলতি অর্থবছরের ৬০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরে ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মোট কৃষি ঋণ লক্ষ্যমাত্রার অন্তত ৫০ শতাংশ বিতরণ করতে বলা হয়েছে। বাকি ঋণ তৃতীয় কোনো লিংকেজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিতরণ করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও কৃষি ঋণ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।