Published : 02 Aug 2026, 10:19 PM
প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা নিয়ে শুরু হলো নতুন অর্থবছর।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের প্রথম মাসের চেয়ে ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।
গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিটেন্স প্রবাহের মাসিক তথ্য প্রকাশ করেছে।
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা; বছরজুড়েই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক রেমিটেন্সে উল্লম্ফন ছিল। ১২ মাসে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে দেশে।
প্রতি মাসে গড়ে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৫০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত মার্চ মাসে, ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে মে মাসে; ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
ডলারের মূল্যবৃদ্ধি চলতি জুলাই মাসে রেমিটেন্স বাড়ার একটি কারণ বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “অন্তবর্তী সরকারের সময় থেকে হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমে গেছে। সবাই এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাচ্ছেন। মূলত এ কারণেই রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে।”
রেমিটেন্স বাড়ার আরেকটি কারণ বলেছেন অর্থনীতির গবেষক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে। ইরান যুদ্ধের কারণে এসব দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। থামবে থামবে বলেও থামছে না এই যুদ্ধ; নতুন নতুন মোড় নিচ্ছে। সে কারণে প্রবাসীরা তাদের জমানো সব টাকা দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
“এটাও রেমিটেন্স বাড়ার একটি কারণ হতে পারে।”
রেমিটেন্স বাড়লে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।
সবশেষ গত মে মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
সে হিসাবে বর্তমানের ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।