Published : 20 May 2026, 05:26 PM
বিদ্যুতের বাড়তি উৎপাদন সক্ষমতার কারণে ক্যাপাসিটি চার্জ বেশি দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির প্রথম অধিবেশন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় আনুপাতিক হারে অনেক বেশি।
“এই ইনস্টল ক্যাপাসিটি বেশি হওয়ার কারণে ওই যে বসিয়ে খাওয়ানো যেটা যেহেতু বসা আছে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে বসিয়ে বসিয়ে।”
তার ভাষ্য, স্থাপিত সক্ষমতা আদর্শ মাত্রায় থাকলে ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ কম হত।
জালাল আহমেদ বলেন, “যদি আমার ইন্স্টল ক্যাপাসিটি এর চেয়ে কম থাকত। আইডিয়ালি যেটা হওয়া উচিত ২০-২৫ শতাংশ যদি থাকত, ক্যাপাসিটি চার্জ হয়ত কম খরচ করতে হইত। এটা সহনীয় হইত তখন।”
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার ওপর দুই দিনের গণশুনানির প্রথম দিন ছিল বুধবার।
পিডিবির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যহার প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে।
পিডিবির হিসাবে, ২০২৬ ২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয় বাবদ মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। বিদ্যমান বাল্ক ট্যারিফে বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় হবে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা।
রাজস্ব চাহিদা অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১২ টাকা ৯১ পয়সা। এই হারে পাইকারি দাম নির্ধারণ করা হলে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে পিডিবির ভাষ্য।
তবে পিডিবি প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা অথবা ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
তাদের হিসাবে, প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৩ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। আর ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৬ হাজার ৬২৩ কোটি টাকার বেশি।
কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ভর্তুকি বাদে ২০২৫ ২৬ অর্থবছরে পিডিবির নিট রাজস্ব চাহিদা ১৩ লাখ ৭২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বা প্রতি ইউনিটে ১২ টাকা ৫১ পয়সা।
বিদ্যমান পাইকারি দরে ওই অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। ভর্তুকি ছাড়া এই ঘাটতি পূরণ করতে পাইকারি মূল্যহার প্রায় ৭৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জালাল আহমেদ বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলে ক্যাপটিভ বিদ্যুতের প্রয়োজন হত না।
“আপনি পাওয়ারের কথা বলছেন যদি আনইন্টারাপটেড পাওয়ার আপনি দিতে পারতেন, তাহলে কিন্তু ক্যাপটিভ পাওয়ারগুলো হয়ত থাকত না।”
তার ভাষ্য, ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ব্যবহৃত গ্যাস বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা গেলে তা আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগানো যেত।
সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সম্পর্কে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার।
“পিডিবির দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন লাগবে একটু। পিডিবিতে যারা কাজ করেন, যারা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন লাগবে। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে যেটা বুঝি, এটা চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে।”
বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ বাড়লে ব্যয়বহুল বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ভোক্তার ওপর চাপও কমে আসবে।
“আমরা সোলারকে যদি উৎসাহিত করি, ভবিষ্যতে সোলারের উৎপাদন যদি বৃদ্ধি পায়, নিঃসন্দেহে আপনার অধিকতর খরচ যেখানে হচ্ছে এই খরচটা কমে আসবে এবং নিঃসন্দেহে এটার উপরে যে বোঝা, এটা কমবে।”
শুনানিতে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
তিনি বলেন, “মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে একটা কথা বারবার বলা হচ্ছে যে, দাম না বাড়ালে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সরকার ভর্তুকি কোথা থেকে দেয়? ভোক্তার টাকা দিয়েই কিন্তু ভর্তুকি দেওয়া হয়।”
তার ভাষ্য, “সবাই শুধু সরকারের মুনাফা নিয়েই ভাবছে, অথচ মানুষ যে মরে যাবে, তার কোনো খেয়াল নেই।”
বিইআরসিকে সতর্ক করে মিজানুর রহমান বলেন, “আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এখান থেকে সরে আসুন। সরে না এলে আপনারা একসময় গণশত্রুতে পরিণত হবেন।”
শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের লিখিত বক্তব্য ২৩ মে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “যদি লিখিতভাবে দিতে পারেন ২৩ তারিখে তাহলে এটা আমাদের জন্য উপকার হবে।”
দুই দিনের গণশুনানিতে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব পর্যায়ক্রমে শুনবে কমিশন।