১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব ব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ, অপেক্ষা করার কথা বললেন অর্থমন্ত্রী

“এটা পরিপূর্ণভাবে শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। সুতরাং এখান থেকে এই যে কোনো সিদ্ধান্ত, ফাইনাল কোনো সিদ্ধান্ত হবে–এটা প্রত্যাশা করা ভুল হবে।”

বিশ্ব ব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ, অপেক্ষা করার কথা বললেন অর্থমন্ত্রী

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: ভিডিও থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 06:33 PM

Updated : 13 Oct 2026, 06:33 PM

অর্থনীতির ধীরগতি ও বর্তমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী বিশ্ব ব্যাংক থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়ার যে তথ্য চাউর হয়েছে, তা নাকচ না করলেও ব্যাংককে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হচ্ছে না বলে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিনে সেখানে সাংবাদিকদের সামনে আসেন অর্থমন্ত্রী।

তখন নিয়মিত ঋণের বাইরে বিশ্ব ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার চাওয়ার খবরের দিকে ইঙ্গিত করলে তিনি বলেন, “আমি এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার করে বলতে চাই। এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না কিন্তু। আমি অনেকগুলো ভুল রিপোর্টিং দেখতে পাচ্ছি এখানে-সেখানে। এটা একটা আলোচনা।

“এই আলোচনার ভিত্তিতে একটা ফলোআপ হবে। এটা একটা, এটা একটা প্রক্রিয়া। এটা আগামী কয়েক মাস চলবে। এখানে যে আলোচনাটা হচ্ছে, এটা একটা ভিত্তি আলোচনা। এই ভিত্তির উপর যে প্রসেসটা অব্যাহত থাকবে এবং এটা পরিপূর্ণভাবে শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। সুতরাং এখান থেকে এই যে কোনো সিদ্ধান্ত, ফাইনাল কোনো সিদ্ধান্ত হবে–এটা প্রত্যাশা করা ভুল হবে।”

এদিন সভার এক ফাঁকে বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) অনশুলা কান্তের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।

এদিন অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “এটার ওপর আলোচনা হবে, এরা ঢাকায় যাবে, এটা কয়েক মাস চলবে–একটা প্রসেস, এটা প্রসেসে চলতে থাকবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই প্রসেসের আগে যে আলোচনা, এটার গুরুত্ব হলো যে, আমরা যে আলোচনার ভিত্তিতে আগামী দিনের প্রসেসটা কমপ্লিট করব, এই জায়গাটাতে আমরা ভালো জায়গায় গিয়েছি।”

তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গেও বিশ্ব ব্যাংক ‘ফুললি এলাইনড’ দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা এই পদ্ধতি কীভাবে এটা সমাধান করবে–এগুলোর আলোচনা চলছে।”

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে দেশ যাচ্ছে, বিগত দিনের যে বোঝা বইতে হচ্ছে এবং বিশ্বের এই যুদ্ধের কারণে যে বিপর্যয় ঘটছে, তারা সব অনুধাবন করছে।

“আমরা যে এটা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যে যে নীতিগুলো নিয়েছি, তারা এই নীতিগুলোর সাথে এলাইনড আছে, একমত আছে।”

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬ এর পূর্বাভাস বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে শঙ্কা এ উন্নয়ন সহযোগীর। এদিন বার্ষিক সভায় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইএমএফ।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অসুবিধা নাই। আমরা কারও প্রক্ষেপনকে, আমরা কারও কোনো পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা ওদের হিসাবে ওরা দিয়েছে, খুবই ভালো কথা। আমরা কাজ করছি। দেখা যাক, সময় যখন আসবে তখন আমরা বাকি সূচকগুলো দেখতে পাব, মানদণ্ডগুলো দেখতে পাব।

“এগুলো নিয়ে কোনো বিতর্কে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, ওরা ওদের মতো করছে। এবং আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে–এটা হচ্ছে মূল কথা। এর মাধ্যমে আমরা যে আমাদের ইশতেহারে, আমাদের বাজেটে যে প্রক্ষেপনগুলো করেছি, আমরা আশা করি সেগুলো আমরা পূরণ করতে পারব।”

চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতিকে সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যের কথা বলেছে সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির পারদ কিছুটা চড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৪ শতাংশে।

পুরানো খবর:

আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত ধাপে ধাপে পূরণ করতে চায় সরকার