Published : 28 Aug 2026, 12:39 PM
ঋণের চাহিদা কমার বিপরীতে আমানতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য এক বছরের ব্যবধানে ৩৯ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
গত জুন মাস শেষে ব্যাংক খাতে এই অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুনে এর পরিমাণ ২ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ছিল।
এছাড়া মে মাসের তুলনায় জুন মাসে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে ৭১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা বা ২১ দশমিক ১৪ শতাংশ। গত মে মাসে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে ব্যাংক খাতে সার্বিক তারল্য ২৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে গত জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৫০২ কোটি ৪৩ লাখ টাকায়। যেখানে ২০২৫ সালের জুনে সার্বিক তারল্য ছিল ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩০৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে ন্যূনতম তারল্য সংরক্ষণের (সিআরআর ও এসএলআর) প্রয়োজন ছিল ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৬৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে তারল্য সংরক্ষিত ছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ৫০২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
ফলে অতিরিক্ত তারল্য জমেছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। এই মোট তারল্যের মধ্যে ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুনে ন্যূনতম তারল্য সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৩ লাখ ২ হাজার ৬৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের অতিরিক্ত তারল্যের একটি অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বল্প সুদের আমানত উইন্ডো ‘স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি’ বা এসডিএফ-এ জমা রাখছে।
এই খাতে সুদের হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা কল মানি রেটের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে অতিরিক্ত তারল্যের বিপরীতে ব্যাংকগুলো এসডিএফ-এ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা জমা রেখেছিল, যা দেশের ব্যাংক খাতের ইতিহাসে একটি রেকর্ড।
সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়লেও, এর বণ্টন সব ব্যাংকে সমান নয়। টাকার চাহিদা মেটাতে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় অনেক তফসিলি ব্যাংককে এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অথবা আন্তঃব্যাংক বাজার থেকে ধার করতে হচ্ছে। এজন্য কল মানি মার্কেট, আন্তঃব্যাংক রেপো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুনে কল মানি, আন্তঃব্যাংক রেপো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো থেকে ব্যাংকগুলো ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা ধার নিয়েছিল। এই অঙ্ক ধারাবাহিকভাবে বেড়ে গত ডিসেম্বরে ২ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা এবং সর্বশেষ গত জুনে ৩ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন বিনিয়োগের সুযোগ ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসছে। চাহিদা নাই তেমন। অতিরিক্ত তারল্য বৃদ্ধি অনেক ব্যাংকের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, যদি সামনের দিকে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়।”
এই অলস আমানতের বিপরীতে কোনো আয় না হলেও আমানতকারীদের ঠিকই সুদ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগবিহীন তারল্যের মজুদ বাড়ছে। এটা সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। এমনকি সুদহার কমে মূল্যস্ফীতির নিচে চলে যাওয়ার মত অবস্থা হয়েছে।’’
ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার পেছনে শিল্পের জ্বালানি সংকটও দায়ী বলে মনে করেন এই ব্যাংকার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।