Published : 05 Sep 2025, 01:44 AM
নানা ‘হেনস্তার’ শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদেরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
“আমার ডাকসুতে জেতা লাগবে না, কেবল বেঁচে থাকতে চাই”- কাদেরের এমন পোস্টের ঘণ্টা কয়েক পর বৃহস্পতিবার রাতে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে রাকিব লেখেন, “কাদের তোমাকে কথা দিচ্ছি, রাজাকার, আল বদর, আল শামসদের বংশধরদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তোমার পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
“আল বটর বাহিনীর কমান্ডারদের আসল চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে।”
তিনি লেখেন, “সাইবার বুলিং এর জন্য প্রশিক্ষিত শিবিরের নেতাকর্মী, গুপ্ত বাহিনী, সমর্থক, সাথীবৃন্দ, জনশক্তি দ্বারা শুধুমাত্র সচেতন নারী নেতৃত্বই নয়, বিরোধী মতাদর্শের সবাই ধারাবাহিকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। এদেরকে চিহ্নিতপূর্বক বিচারের আওতায় নিয়ে আসতেই হবে, সেই দাবি করছি। সময়ের পরিক্রমায়, অপরাধীদের বিচার সুনিশ্চিত।
“আল বটর বাহিনীর মাধ্যমে এরা নাকি তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের নৈতিকতা শিখাবে?? তার নমুনা ছাত্র সমাজ প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করছে।”
এর আগে কারও নাম না নিয়ে হেনস্তার দাবি করে ফেইসবুকে পোস্ট দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংসদ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আব্দুল কাদের।
তিনি লেখেন, “আমার ডাকসু'তে জিতা লাগবে না, কেবল বেঁচে থাকতে চাই। এতোটুকু দয়া অন্তত আমাকে দেখানোর অনুরোধ।”
জুলাই আন্দোলনে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল কাদের। সেখান থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জুলাইয়ের সম্মুখসারির নেতাদের নিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নামে সংগঠন তৈরি করেন। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক তিনি।
এই সংগঠনের প্যানেল বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ থেকে এবার ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
নির্বাচনের আগে অনলাইনে হয়রানি শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরে কাদের বলেন, “সেই রাজাকার নিয়ে কথা বলার পর থেকেই যে শুরু হইছে, প্রতিনিয়ত সেটা আরও বাড়তেছে।
“তারপর থেকেই আমি ঘুমাতে পারি না, মাঝরাতে জেগে যাই, শরীর কাঁপতে থাকতে। একটা মানুষকে নিয়ে আর কত করবেন? মানুষের কতটুকুও বা ধৈর্য ক্ষমতা থাকে, আমি আর কতদিন নিতে পারব জানি না।”
এ পোস্টে তার অভিযোগ, “এই হেনস্তাটা আমার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও মানা যাইত, বাড়িতে গিয়ে আমার আম্মাকে পর্যন্ত কথা শুনাচ্ছেন। ১০ দিন আগের বক্তব্য ‘কাট’ করে ‘প্রপাগান্ডা’ না ছড়ালেও পারতেন।
“পুরা বক্তব্য তুলে ধরলে বক্তব্যের সারমর্ম বুঝতে পারত মানুষ। কেবল তো শুরু, আরও পাঁচ দিন বাকি। ততোদিনে কী যে ঘটবে, সেটা ভাবতে গেলে আরও বেশি ট্রমাটাইজড হয়ে যাই।”
আরও পড়ুন: