Published : 13 Oct 2025, 03:40 PM
সাড়ে তিন দশক বাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বুধবার।
তার আগে প্রচারণার শেষ দিনে সোমবার ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট, স্টেশন, কলার ঝুপড়ি এলাকায় বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী এবং শিক্ষার্থীদের প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে নির্বাচনের আমেজ বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ আবার প্রার্থীদের পক্ষে হাতপাখা, গিটার, পাখি, ব্যালট নম্বর, ট্রফি, শাটল ট্রেন ইত্যাদির আদলে তৈরি লিফলেট বিলি করছেন। কেউ কেউ চাইছেন ভোট, কেউ আবার চাইছেন দোয়া-শুভকামনা। গান আর পথ নাটকের মাধ্যমেও ভোট চাইতে দেখা গেল ‘দ্রোহ পর্ষদের’ প্রার্থীদের।

সার্বিক পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক সমন্বয়কদের ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের’ সহ-দপ্তর সম্পাদক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান সোহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিগত ডাকসু এবং চাকসুতে যেমন নির্বাচনের আগে যেমন নানারকম ঘটনা দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরকম কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা এখনো ঘটেনি।”
২০২০-২১ সেশনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত যে আমাদের চাকসু নির্বাচনটা খুবই সুশৃঙ্খলভাবে হচ্ছে। এখন দেখা যাক, নির্বাচনটা কীভাবে হয়।
“আশা করছি যে, উৎসবমুখর পরিবেশেই নির্বাচন হবে। আজ প্রচারণার শেষ দিনে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রচারণা চালাচ্ছি। আশা করছি, তারা আমাদের মূল্যায়ন করবে।”
ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের পক্ষে ভোট চাইছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলাম শুভ।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী ভাইয়ের জন্য ভোট চাইতে এসেছি। আমরা মনে করি শিক্ষার্থীরা তাকে মূল্যায়ন করবে।”
কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে আসবে কি না, সেটি নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। তাদের আনা নেওয়ার জন্য বিশেষ শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হত।
“আরেকটা জিনিস হচ্ছে এখানে মেশিনে ভোট গণনা হচ্ছে। আমাদের দাবি যাতে হাতে গণনা করা হয় এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গণনা করা হয়।”
চাকসুর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৬ জন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠেয় চাকসু নির্বাচনে মোটা দাগে ১৩টি প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ২১ জন, খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১২ জন, সহ খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১৪ জন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৫ জন, দপ্তর সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ দপ্তর সম্পাদক পদে ১৪ জন, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১৩ জন, সহ ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১০ জন, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ১১ জন, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পাদক পদে ১২ জন, সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ২০ জন, স্বাস্থ্য সম্পাদক পদে ১৫ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ১৭ জন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ১৬ জন, যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক পদে ১৪ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৯ জন, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ২০ জন এবং পাঁচ নির্বাহী সদস্য পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৮৫ জন।

আর, হল সংসদ নির্বাচনে ৯টি ছাত্র হলে ৩৫০ জন বিভিন্ন পদে লড়বেন। আর, পাঁচটি ছাত্রী হলে বিভিন্ন পদে লড়বেন ১২৩ জন। শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে বিভিন্ন পদে লড়বেন ২০ জন প্রার্থী।