Published : 15 Oct 2023, 08:15 PM
আগামী নির্বাচন শুধু আওয়ামী পরিবারের জন্য নয়, ‘বাঙালি জাতিসত্তার জন্যও শক্ত চ্যালেঞ্জ’ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।
রোববার বন্দরনগরীর দারুল ফজল মার্কেট এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাছির বলেন, “দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। এই নির্বাচন শুধুমাত্র আওয়ামী পরিবারের জন্য নয়, বাঙালি জাতিসত্তার জন্য বড় ও শক্ত চ্যালেঞ্জ।
“এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নির্বাচনী ফলাফলের উপর নির্ভর করবে এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি থাকবে কি না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালিত হবে কি না। নাকি আবার পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।”
নাছির বলেন, “দেখতে পাচ্ছি একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের আন্তর্জাতিক মুরুব্বি সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি একটি অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে।
“বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অপশক্তি। যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দেওয়া শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব দিয়ে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রধান কুশীলব জিয়া। তা না হলে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আড়াল করেন কীভাবে এবং তাদের দায়মুক্তির জন্য সংসদে বিল পাস করেন কীভাবে?”
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সমাবেশে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার পূরণ করেছেন। মানুষ এখন ক্ষুধামুক্ত। আগে এদেশের হাড্ডিসার মানুষের ছবি দেখিয়ে এনজিওগুলো বিদেশে টাকা ভিক্ষা করে আনত।
“ওই টাকার ৮০ শতাংশ নিজেরা পকেটে পুরে ২০ শতাংশ দিয়ে ড. ইউনূসের মত সুদের ব্যবসা করত। এই ইউনূসের সাথে গলা মিলিয়ে বিএনপির মীর্জা ফখরুল এখন সরকারের পতন চান।”
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, “খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে তার চিকিৎসাকে ইস্যু করে বিএনপি মাঠ গরম করতে চায়। খালেদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও এতিমদের অর্থ আত্মসাতের মামলাটি আওয়ামী লীগ করেনি, করেছে ওয়ান-ইলেভেনের সরকার।
“ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি দণ্ড ভোগ করছেন, সেই দণ্ড বাতিলের ক্ষমতাও বতর্মান সরকারের নেই। তাই তাকে আগে কৃতকর্মের জন্য রাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তারপর মুক্তির বিষয়টি ভাবা যেতে পারে।”
চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ ও শফিক আদনান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মসিউর রহমান চৌধুরী, মাহবুবুল হক মিয়া।