যৌন নিপীড়ন: চবিতে প্রশাসন করল বহিষ্কার, বিভাগ নিল পরীক্ষা

বিভাগ বলছে, তাদের হাতে এখনও বহিষ্কারাদেশ আসেনি।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2022, 01:19 PM
Updated : 3 August 2022, 01:19 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েও দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন দুই ছাত্র।

এই দুই শিক্ষার্থী হলেন দর্শন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের রাকিবুল হাসান রাজু ও ইমন আহমেদ।

এক বছর আগে দুই শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় এ দুজন চিহ্নিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি যৌন নিপীড়নের আরেক ঘটনায় আন্দোলনের মধ্যে পুরনো ঘটনার জন্য রাকিব ও ইমনকেও ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২৫ জুলাই প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত জানানোর এক সপ্তাহ পর বুধবার দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ২০১ নং কোর্সে তাদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।

Also Read: চবিতে আরেক নিপীড়নের ঘটনায় ৪ ছাত্রকে বহিষ্কার

জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবদুল মান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ এখনও বিভাগে আসেনি। বিভাগ বহিষ্কারাদেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্য।”

বহিষ্কারাদেশ পেলে কী করবেন-প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখন যদি বিভাগে আদেশ আসে এবং সেখানে যদি তাদের বহিষ্কার করার কথা বলা হয়, তাহলে ওই চিঠি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডিসিপ্লিনারি কমিটি ২৫ জুলাই চার ছাত্রকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীদের বিভাগে এখনও সেই বহিষ্কারাদেশ পৌঁছায়নি। তাই তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছে।

“ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে তারা ২৫ জুলাই থেকে বহিষ্কৃত। সেক্ষেত্রে কেউ পরীক্ষায় উপস্থিত থাকলেও তা বাতিল হয়ে যাবে।”

Also Read: যৌন নিপীড়ন: প্রতিবাদে উত্তাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Also Read: চবিতে যৌন নিপীড়ন: দুই ছাত্রকে চিরতরে বহিষ্কার

২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে দুই নারী শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। তখন তদন্ত হলেও বিচার প্রক্রিয়া এগোয়নি।

গত ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই শিক্ষার্থীকে চিরতরে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ২৫ জুলাই উপাচার্যের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মনিরুল হাসান একইসঙ্গে জানান, গত বছর দুই ছাত্রীকে নিপীড়নের ঘটনায়ও চার ছাত্রকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বহিষ্কৃত অন্য দুজন হলেন আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুবেল হাসান।

দুই ঘটনায় বহিষ্কৃত সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক