বঙ্গবন্ধু টানেল হয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা, গর্ব নিয়ে ছাড়ছেন স্বদেশ

রোববার বঙ্গবন্ধু টানেল ব্যবহার করা বিদেশ ফেরত এবং প্রবাসের পথ ধরা যাত্রীদের সবাই ছিলেন আনন্দিত।

মিঠুন চৌধুরী, চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Oct 2023, 11:59 AM
Updated : 29 Oct 2023, 11:59 AM

বাহারাইন প্রবাসী মো. ইদ্রিসের দেশে ফেরার কথা ছিল এক মাস আগে, কেবল বঙ্গবন্ধু টানেল দিয়ে পটিয়ায় বাড়ি ফিরবেন বলে ফেরার তারিখ পিছিয়েছিলেন এক মাস।

সাতকানিয়ার আলাউদ্দিন টানেল ধরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাচ্ছেন ইতালির ফ্লাইট ধরতে। এই যুবকের ভাষ্য, দেশ ছাড়ার আগে স্বদেশের ‘অন্য রূপ’ দেখে যেতে পারায় তিনি গর্বিত।

রোববার বঙ্গবন্ধু টানেল ব্যবহার করা বিদেশ ফেরত এবং প্রবাসের পথ ধরা চাটগাঁবাসীর মনে ছিল বাড়তি আনন্দ।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেলের পতেঙ্গা প্রান্তের অদূরেই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। টানেল হওয়ায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের নানা জায়গার বিমান যাত্রী এবং দেশে ফেরা বাসিন্দাদের বিমানবন্দর এবং বাড়ি দুটোই ‘অনেক কাছের’ গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ টানেল শনিবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর রোববার সকাল ৬টায় সাধারণ যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় টানেলের দ্বার।

কর্ণফুলী নদীর একপাড়ে বন্দর নগরী, অন্যপাড়ে আনোয়ারা উপজেলার শিল্প এলাকা। ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ার উচ্চাভিলাসী লক্ষ্য নিয়ে বানানো এই টানেলের মাধ্যমে এই দুই পাড় যুক্ত হল। পথ খুলল বিশ্বমানের যোগাযোগের।

প্রথম পারাপারকারী হতে পতেঙ্গা প্রান্তে অপেক্ষা শুরু হয় রোববার রাত ১২টা থেকে। আর আনোয়ারা প্রান্ত থেকে গাড়ি নিয়ে যাত্রীরা আসতে শুরু করে রাত ৩টা থেকে।

তবে বঙ্গবন্ধু টানেলের একমাত্র টোল প্লাজাটি আনোয়ারা প্রান্তে হওয়ায় প্রথম টোল দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন আনোয়ারা প্রান্তের অপেক্ষমাণরা।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে কথা হয় দুবাই থেকে ফেরা প্রবাসী মো. সোহেলের সঙ্গে। তিনিই টানেল পেরিয়ে আসা প্রথম প্রবাসী।

পটিয়ার বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, “দুই বছর পর আজ দেশে ফিরলাম। এই পথে আগে কখনো আসিনি। টানেল অনেক সুন্দর। এরকম দুবাইতে দেখেছি। আমাদের দেশেও বিদেশের মত টানেল হয়েছে দেখে খুব ভালো লাগছে।

“বিমানবন্দর থেকে পুরো শহর ‍ঘুরে বাড়ি যেতে হলে ঘণ্টা দেড়েক সময় বেশি লাগত। এখন এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে মাত্র ১০ মিনিটে টানেল পার হয়ে আনোয়ারা প্রান্তে চলে এসেছি।”

চট্টগ্রামের পটিয়ার ইদ্রিস থাকেন বাহারাইনে। দেশে ফিরে মাইক্রোবাসে ছেলেকে পাশে বসিয়ে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে টানেল পেরিয়ে ইদ্রিস যাচ্ছিলেন বাড়ির দিকে।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার দেশে আসার কথা ছিল আরো এক মাস আগে। টানেল দিয়ে যাব বলে একমাস পিছিয়ে এসেছি। আগে এয়ারপোর্ট থেকে আমাদের বাড়ি পৌঁছাতে লাগত দুই ঘণ্টা। এখন লাগবে ৩০ মিনিট।”

বাঁশখালী সদরের আনছার আলী বিদেশযাত্রী স্বজনদের বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলেন বাড়ির পথে।

তিনি বলেন, “আগে আনোয়ারা থেকে বিমানবন্দর যেতে বা আসতে দুই ঘণ্টা সময় লাগত। আজ লাগলো ১০ মিনিট। বাঁশখালীর মানুষের খুব উপকার হলো। বিশেষ করে বিদেশযাত্রীদের।”

সাতকানিয়ার বাসিন্দা আলাউদ্দিন টানেল ধরে যাচ্ছেন ইতালির বিমান ধরতে। তিনি বলেন, “বিদেশে যাওয়ার আগে দেশের এক নতুন রূপ দেখে গেলাম। ভালো লাগছে, গর্ব হচ্ছে। বাংলাদেশও পারে এটা ভেবে।”

শুধু বিদেশগামী বা বিদেশফেরত যাত্রীরা নয় পতেঙ্গা ও আনোয়ারার স্থানীয় অনেক কিশোর-তরুণ কয়েকজন মিলে ভাড়া গাড়ি নিয়ে টানেল এপার-ওপার করে প্রথম দিনের পারাপারের ইতিহাসের সাক্ষী হতে এসেছেন।

তাদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। হাতে থাকা মোবাইলে চলছিল অবিরাম সেলফি, গ্রুপ ফটো, ভিডিও আর লাইভ করার পর্ব।