Published : 04 Aug 2023, 01:41 PM
রাতভর বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার-টাইগার পাস সড়কের এক পাশ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দুই ঘণ্টার চেষ্টায় মাটি সরিয়ে রাস্তা সচল করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর অন্যতম প্রধান সড়কটির পাশে পাহাড়ের একাংশ ধসে রাস্তায় একটি মাইক্রোবাসের উপরে পড়ে। তাতে মাইক্রোবাসটি ধসে পড়া মাটিতে আটকে যায়, চালক গাড়ি থেকে ছিটকে পড়লেও প্রাণে বেঁচে যান।
এদিকে পাহাড় ধসের পর দ্বিমুখী ওই সড়কের লালখান বাজার থেকে টাইগার পাসগামী অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল বেলচা হাতে সড়কে জমে থাকা মাটি সরিয়ে নিলে বেলা ১১টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। মাটি চাপায় আটকে পড়া মাইক্রোবাসটিও ক্রেন দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি বেলচা দিয়ে কেটে সরিয়ে নিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে আমাদের।”
এ ধরনের কাজে সাধারণত এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের এক্সক্যাভেটরটি অন্য জায়গায় কাজে থাকায় সেটি এখানে আসতে পারেনি বলে জানান রাজ্জাক।
মাটি সরাতে এক্সক্যাভেটর চেয়ে সিটি করপোরেশনের সাথে যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি ফায়ার সার্ভিস।
এ বিষয়ে জানতে লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলালের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়া মাইক্রোবাসের চালক জীবন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে আমি গাড়ি নিয়ে বহদ্দারহাটের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে একটা বিকট শব্দ হয়।
“দেখি পাহাড় ভেঙে পড়েছে। একটা বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ল। একটা গাছ দুই টুকরা হয়ে গেল। মাটি এসে আমার গাড়ি চেপে ধরল। আমি তখন ছিটকে গাড়ি থেকে বাইরে পড়ে যাই।”
লালখান বাজারের মতিঝর্ণা, বাঘঘোনা, টাঙ্কির পাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রতি বর্ষায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
তবে লালখান বাজার-টাইগার পাস সড়কের দুই পাশের পাহাড় ধসে পড়ার ঘটনা গত কয়েক বছরে ঘটেনি।
এই সড়কের উপর দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে। এক্সপ্রেসওয়েটি বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে লালখান বাজার পর্যন্ত আসবে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সচরাচর এই সড়কের পাশের পাহাড় ধসে পড়তে দেখা যায় না। পাহাড়টির একবারে উপরের অংশ ধসে পড়েছে।
“এখানকার পাহাড়ের মাটি ঝুরঝুরে। গরমে মাটি শুকিয়ে আরো আলগা হয়ে গেছে মনে হল। বেশি বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ের উপরের অংশের মাটি ভেঙে নেমে এসেছে।”
চট্টগ্রামে ২০০৭ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছরই পাহাড় ধসে নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারি বর্ষণ ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরের ৪৮ ঘণ্টা চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রাম শহরে।
মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল।