২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘পাহাড় রক্ষায় আন্দোলন করছি, কিন্তু কারো টনক নড়ছে না’

২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড় ধসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ১২৭ জন নিহত হওয়ার দিনকে পাহাড় রক্ষা দিবস ঘোষণার দাবি।

‘পাহাড় রক্ষায় আন্দোলন করছি, কিন্তু কারো টনক নড়ছে না’

১১ জুনকে পাহাড় রক্ষা দিবস ঘোষণার দাবিতে রোববার চট্টগ্রামে নাগরিক সমাবেশ হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jun 2023, 09:53 PM

Updated : 11 Jun 2023, 09:52 PM

রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব আর প্রশাসনিক নির্লিপ্ততায় পাহাড় কাটা থামছে না বলে চট্টগ্রামের এক কর্মসূচিতে অভিযোগ তুলছেন পরিবেশবাদীরা।

রোববার বিকালে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে পিপল’স ভয়েস ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের যৌথ আয়োজনে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ ছাড়া চট্টগ্রামে পাহাড় রক্ষা হবে না। আমরা বহু বছর ধরে পাহাড় রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু কারো টনক নড়ছে না।

“বর্ষা এলে সরকারি সংস্থাগুলো কিছু মিটিং করে। এসব করেই তারা দিন পার করে। কার্যকর কোনো কিছু এত বছরেও দেখলাম না। তাই সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। তারপর পাহাড় রক্ষার উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”

২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড় ধসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ১২৭ জন নিহত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর কর্মসূচি পালন করে ১১ জুনকে পাহাড় রক্ষা দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে পরিবেশবাদী সংগঠন পিপল’স ভয়েস।

পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, “২ বছর আগে এই সমাবেশ থেকেই বলেছিলাম চট্টগ্রামের পাহাড় রক্ষার দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। তিনি ৪ সরকারি সংস্থাকে ডেকেছিলেন। কিন্তু এসব সংস্থার কর্তাদের ঘুম ভাঙে না। যাদের কাজ করার কথা তারা যেন যন্ত্রমানব, নির্লিপ্ত।

“১৬ বছরে আমরা কিছু করতে পারিনি। যাদের দায়িত্ব ছিল, তাদের নীরবতাকে ধিক্কার জানাই। যারাই দায়িত্বে অবহেলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

Image

বিভিন্ন সময়ে পাহাড় ধসে নিহতদের স্মরণে রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়।

সমাবেশে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি জসিম চৌধুরী সবুজ বলেন, “এই চট্টগ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভবন পাহাড় কেটে। সিডিএ পাহাড় কেটে রাস্তা করেছে। সিটি করপোরেশন আকবর শাহতে পাহাড় কাটছে।

“যাদের রক্ষার কথা তারাই পাহাড় কাটছে। তাই প্রতি বছর পাহাড় ধসে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সেই উদ্যোগ কেউ নিচ্ছে না।” 

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু যাদের কাজ করার কথা তারা ঘুমিয়ে আছে। নির্লিপ্ত প্রশাসনকে ধাক্কা দিয়ে সজাগ করতে হবে। প্রয়োজনে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিব।”

পিপল’স ভয়েসের সভাপতি শরীফ চৌহানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ইউনুস হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা কামাল যাত্রা, কলামিস্ট ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য মনসুর মাসুদ, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সভাপতি আলীউর রহমান, ইকো ফ্রেন্ড সভাপতি উত্তম কুমার আচার্য, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের উৎপল বড়ুয়া, পিপল’স ভয়েসের পক্ষ থেকে শিক্ষিকা মাগ্রেট মনিকা জিনস, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নরেশ চাকমা, পহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক লামিও মারমা।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, কবি আশীষ সেন, কাজী এএএম মমতাজুল ইসলাম, শিল্পী আলোকময় তলাপত্র, শরৎজ্যোতি চাকমা, পরিবেশ সংগঠক ই. কে ঘোষ, শেখ বিবি কাউসার, আরিফুল হক, এরশাদুল করিম, খোকন মিয়া, তিতুমীর বান্না।

নাগরিক সমাবেশ শেষে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে নিহত ১২৭ জন এবং ২০১৭ সালে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত ১৩০ জনসহ বিভিন্ন সময়ে পাহাড় ধসে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়।