স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 August 2022, 02:59 PM
Updated : 17 August 2022, 02:59 PM

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ১৩ বছর আগে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম রফিক পলাতক। মামলার অন্য তিন আসামি রফিকের বাবা আবুল খায়ের, মা আনোয়ারা বেগম ও বোন বেবী আক্তারকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরা এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার আরিফুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যৌতুকের জন্য স্ত্রী ছাবিনা খাতুনকে গলা টিপে ও পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে স্বামী রফিকুল ইসলাম।

“নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি রফিককে মৃত্যুদণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।”

পিপি আরিফুল বলেন, “আসামি রফিক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছর কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে গিয়ে রফিক পলাতক হয়।”

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ি উপজেলার আজিমপুর গ্রামের ছাবিনা খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার পশ্চিম লম্বা বিল গ্রামের রফিকুল ইসলাম রফিকের বিয়ে হয় ঘটনার চার বছর আগে ২০০৫ সালে।

ঘটনার সময় এই দম্পতির একটি ১০ মাসের কন্যা সন্তান ছিল এবং ছাবিনা তিন মাসের গর্ভবতী ছিলেন।

২০০৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভোরে ওই গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগে ওই দিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত ২০০৩ এর ১১(ক) ও ৩০ ধারায় নিহতের বড় ভাই মো. হাশেম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে বলা হয়, বিয়েতে নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি ফনিক্স সাইকেল দেয়া হয় স্বামী রফিককে। বিয়ের পর দুবছর দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও এরপর থেকে রফিক স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেবার জন্য চাপ দিতে থাকে।

এতে অপারগতা প্রকাশ করলে সাবিনাকে মারধর করা হত বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ হলে তাতে রফিককে দায়ি করা হয়। এতে রফিক ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত ছিলেন।

মামলায় ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়, ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিকালে ছোট বোন রোজি আকতার ইফতারি নিয়ে সাবিনার শ্বশুর বাড়িতে যান। এরপর ইফতারি কম পাঠানো নিয়ে সাবিনার সঙ্গে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়।

এর জেরে রফিক সাবিনাকে মারধর করে। পরে ভোর সাড়ে ৫টায় স্ত্রীকে বাড়ির কাছে হারুয়ালছড়ি খালের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে গলা টিপে ও খালের পানিতে চুবিয়ে সাবিনাকে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

সকালে রোজি বোনের খোঁজ না পেয়ে বাড়ির আশেপাশে খুঁজতে গিয়ে খালের মধ্যে সাবিনার লাশ দেখতে পায়।

তখন স্থানীয়রা রফিক ও তার পরিবারের সদস্যদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। এ মামলায় ২০১০ সালের ২৭ জুলাই অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার রায় দেয়া হল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক