০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

নামে গোলাপ, আসলে গোলাপ নয়

ক্যাকটাসে সাধারণত পাতা থাকে না; থাকলেও খুব ছোট হয়। কিন্তু রোজ ক্যাকটাস গাছ সবুজ পত্রপল্লবে ঠাসা, কাণ্ড কাঁটাময়।

মিঠুন চৌধুরী মিঠুন চৌধুরী

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Oct 2023, 01:23 PM

Updated : 06 Oct 2023, 01:23 PM

প্রথম দেখায় মনে হয় লালচে কমলা রঙের বড় ফুলটি বোধহয় গোলাপ, কিন্তু আসলে এটি ক্যাকটাসের ফুল, নাম ‘রোজ ক্যাকটাস’।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সিঁড়ির পূর্বপাশের দেয়াল ঘেঁষে ফুটেছে বাহারি ফুলটি। রঙ ও আকৃতির জন্য নজরও কাড়ছে।

সাধারণ ক্যাকটাসের মতো নয় ‘রোজ ক্যাকটাস’। ক্যাকটাসে সাধারণত পাতা থাকে না; থাকলেও খুব ছোট হয়। কিন্তু রোজ ক্যাকটাস গাছ সবুজ পত্রপল্লবে ঠাসা, কাণ্ড কাঁটাময়। এর আদিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আর্দ্র বনে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোজ ক্যাকটাসের  বৈজ্ঞানিক নাম Pereskia bleo । এটি Cactaceae পরিবারের উদ্ভিদ। ক্যাকটাস বলতে আমরা সাধারণত পত্রহীন উদ্ভিদকে বুঝি। কিন্তু বড় বড় পাতাযুক্ত এই রোজ ক্যকটাসকে প্রথম দেখায় ক্যাকটাস বলে আলাদা করা কঠিন।”

চট্টগ্রামের বোটানিক্যাল গার্ডেনেও 'রোজ ক্যাটটাস' আছে জানিয়ে অধ্যাপক রাসেল বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের 'রোজ ক্যকটাসটায়' সারি সারি কমলা রঙের ফুল ফুটেছে। গোলাপের কাঁটার মত এই গাছের বোঁটার নিচে মাঝারি আকৃতির কাঁটা আছে। অনেকে ফুল দেখতেও আসছেন।"

রোজ ক্যাকটাস গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, প্রায় ২-৮মি উঁচু হয়। এর মূল আকর্ষণীয় অংশই হচ্ছে গাঢ় কমলা রঙের ফুল। গোলাপের মত দেখতে হলেও ফুলে সুঘ্রাণ নেই। একটি ডালের আগায় একটি করে ফুল ফোটে। কমলা রঙের পাপড়িতে আছে লালচে আভা।

পাপড়ির মাঝে লাল রঙের এক গুচ্ছ পুংকেশর। আর পুংকেশরের মাথায় হলদে সাদা ছোট্ট পরাগদানী। এই গুচ্ছের ঠিক মাঝ বরাবর ছোট তারার মত গর্ভমূল।

মৌমাছি আর অন্য পোকামাকড়ের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। ফানেলের মত মাঝারি আকারের ফল হয়।

এই উদ্ভিদটির কিছু ঔষুধি গুণের কথাও প্রচলিত আছে বলে জানান অধ্যাপক রাসেল।

“এই পাতার মূল ও পাতার রস খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও রক্ত পরিষ্কার হয় বলেও প্রচলিত আছে। অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য এই গাছের ফল সেবন করেন। তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিত নয়,” বলেন এই শিক্ষক।