Published : 15 Nov 2025, 11:59 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৫ মাসে নানা ‘অমানবিক’ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বৃহত্তর সুন্নী জোট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কেউ ‘গায়ে পড়ে ঝগড়া বাঁধালে’ তারা চুপ থাকবেন না।
শনিবার চট্টগ্রাম জেলা শাখা বৃহত্তর সুন্নী জোট আয়োজিত জনসভায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারি এই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “মানুষ আজ ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়।
“গত ১৫ মাসে সারা দেশে ‘মব’ সৃষ্টি করে নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হেনস্তা, মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ বহু ঘটনা ঘটেছে।”
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত এই প্রার্থী বলেন, “বিভিন্ন স্থানে মসজিদে হামলা, জোর করে ইমাম খতিবদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া, কবর থেকে লাশ উঠিয়ে জ্বালিয়ে ফেলা এবং কবরস্থানে অগ্নিসংযোগের মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি বিচারালয়ের বিচারকরাও আজ নিরাপদ নয়।”
সৈয়দ সাইফুদ্দীন বলেন, “সরকার ও সেনাবাহিনী ‘মব ভায়োলেন্স বরদাশত না করার’ ঘোষণা দিলেও বাস্তবে উদাসীনতা স্পষ্ট। সুন্নী ছাত্র-জনতা কারো প্রতিপক্ষ নয়। এদেশে সুফীবাদী জনতাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। কিন্তু গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধালে আমরা আর চুপ থাকব না।”
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সংলাপে ও জুলাই সনদে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ দেওয়াসহ ১৩ দফা দাবিতে সুন্নী জোট নগরীর লালদীঘি মাঠে জনসভা করে।
সেখানে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনো অধরাই থেকে গেল। দেশে কিছুই বদলায়নি। বরং দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন খুন সন্ত্রাস আরো বেড়েছে।
“সরকারের কিছু উপদেষ্টার দল ঘেঁষা পক্ষপাতমূলক আচরণ সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“এ সরকার কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে অগ্রসর না হয়ে জনপ্রত্যাশার আলোকে সকল পদক্ষেপ নেবে এটাই দেশবাসী দেখতে চায়।”
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদি বলেন, “দেশে কোটি তরুণ যুবক আজ বেকার। দিন দিন বাড়ছে দারিদ্র্য। এই সোয়া এক বছরে সারাদেশে শত শত মিল কারখানা বন্ধ হয়ে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লেও সরকারের এদিকে দৃষ্টি নাই।”
দলটির মহাসচিব জয়নাল আবেদীন জুবাইর বলেন, “এই সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ১৫ মাসে দেশে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। দেশে এখন গ্রেপ্তার বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্যসহ ঘুষ দুর্নীতির মচ্ছব চলছে।
“সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারি ব্যর্থতা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, “বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিতে পারে দেশবিরোধী অপশক্তি। আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন কারো কারণে বানচাল হলে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে আমরা আশংকা করছি।”
বিএসপির কো-চেয়ারম্যান কাজী মহসিন চৌধুরী বলেন, “শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারের ঋণ নির্ভরতা বাড়লেও বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। অর্থনৈতিক চাপ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে সরকারের প্রতি জনআস্থা কমছে।”
জনসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর। সভাপতিত্ব করেন বিএসপির চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি এস এম শাহাবুদ্দিন।
সঞ্চালনা করেন জনসভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি আবদুন্নবী আলকাদেরী, বিএসপির চট্টগ্রাম জেলা শাখার সেক্রেটারি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন ভূইয়া ও ইসলামিক ফ্রন্টের চট্টগ্রাম নগর শাখার সহসভাপতি মঈন উদ্দিন চৌধুরী হালিম।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাতের মজলিশে শুরার সদস্য আল্লামা অছিউর রহমান, আল্লামা সোলায়মান আনসারী, আল্লামা আশরাফুজ্জামান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা, আবু নাছের তালুকদার, আবু সুফিয়ান আবেদী আলকাদেরী, আহমদ হোসাইন আলকাদেরী, এম সোলায়মান ফরিদ, আবু তালেব বেলাল, গোলামুর রহমান আশরফ শাহ, ইসলামিক ফ্রন্ট নেতা এস এম ফরিদ উদ্দীন, আল্লামা কাজী জসিম উদ্দিন ও মুহাম্মদ ইব্রাহীম আখতারী।
বৃহত্তর সুন্নী জোটের ১৩ দফার দাবির মধ্যে আছে-
>> নির্বাচনের আগে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা।
>> পার্বত্য জেলায় বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
>> চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা।
>> আরাকান আর্মিকে করিডোর না দেওয়া।
>> মাজার মসজিদে হামলাকারীদের বিচার ও মাজার, খানকা, দরবার শরীফ ও ধর্মীয় নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
>> মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা ও স্বাধীনতার ইতিহাস সংরক্ষণ করা।
>> গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
>> নির্বাচনের সময়ে দল নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।