১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অবৈধ পণ্য খালাস আটকানোয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর হামলা: এনবিআর

রাজস্ব ফাঁকি রোধে পদক্ষেপ নেওয়ায় নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, বলছে এনবিআর।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Dec 2025, 07:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:15 PM

মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য খালাসে বাধা দেওয়া ও রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে নেওয়া উদ্যোগে রুষ্ট ‘একটি পক্ষ’ চট্টগ্রামে দুই কাস্টমস কর্মকর্তার ওপর হামলা করে থাকতে পারে বলে মনে করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।

শুক্রবার সংস্থাটি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রাজস্ব ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করায় নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পরে চট্টগ্রামের সিডিএ আবাসিক এলাকায় চট্টগ্রাম কাস্টমসের দুই কর্মকর্তাকে বহনকারী প্রাইভেট কারে হামলা চালায় মোটরসাইকেলে করে আসা তিনজন। তারা চাপাতি দিয়ে গাড়ির জানালা ভাঙচুর করে এবং গুলি করার হুমকি দেয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) আসাদুজ্জামান খান এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) বদরুল আরেফিন ভূইয়া সেই গাড়িতে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। 

আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা আমাদের উদ্দেশ্য করেই গাড়িতে হামলা করেছে বলে মনে করছি। বিভিন্ন সময়ে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আটক করায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকিও দিয়েছে। এ ঘটনায় আমি গত ৫ অক্টোবর বন্দর থানায় জিডিও করেছি।”

সম্প্রতি প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের আমদানি নিষিদ্ধ ঘনচিনি, পপি বীজ আর বিপুল বিদেশি সিগারেট জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গত মে মাসে ৩০ কোটি টাকার নিষিদ্ধ সিগারেটের পণ্য চালান আটক করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ একটি পক্ষ বিভিন্ন সময়ে কাস্টমস কর্মকর্তারকে মোবাইল ফোনে ‘হুমকি দেয়’ বলে অভিযোগ রয়েছে।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শেডকেন্দ্রিক এক পণ্যের আড়ালে অন্য খালাস নেওয়ার জালিয়াতচক্র মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আনা বিভিন্ন কসমেটিক পণ্যের চালান আটক করায় গত ৫ অক্টোবর রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে ভয়ভীতি দেখানোসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন ৬ অক্টোবর তিনি বন্দর থানায় জিডি করেন।”

চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার তারেক মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বন্দরে শেডকেন্দ্রিক কিছু সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা মিথ্যা ঘোষণায় অথবা অবৈধভাবে অন্য পণ্য আমদানি করে খালাসের সঙ্গে যুক্ত। গত দুইমাসে এ ধরনের বেশকিছু চালান কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটকে দিয়েছে। 

আক্রমণের শিকার দুই কাস্টমস কর্মকর্তা এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত সিন্ডিকেট সদস্যরা এতে সুবিধা করতে পারছিল না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আমাদের ধারণা।”

তারেক মাহমুদ নিজেও বিভিন্ন সময়ে ফোনে হুমকি পেয়েছেন দাবি করে বলেন, কাস্টমসের এআইআর শাখার কর্মীরা চালান আটকের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারাও বিভিন্ন সময়ে হুমকি পেয়েছেন।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন-

চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বহনকারী গাড়িতে চাপাতি হামলা

চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তাদের গাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা