Published : 10 Aug 2026, 04:41 PM
মজুরি বোর্ড গঠন করে বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্য সেবাকর্মীদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ‘বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়ন’।
সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্ত্তক মোড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে সংগঠনটি।
কর্মসূচিতে শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত গত সাড়ে চার দশকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বড় অংশই ন্যায্য মজুরি ও শ্রম আইনে স্বীকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত।
টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য দেশের প্রচলিত শ্রম আইন ও শ্রমবিধিতে যেসব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেগুলো নিশ্চিত করা মালিকপক্ষের আইনগত দায়িত্ব।
“কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক, ছুটি, ওভারটাইম ভাতা, উৎসব বোনাস, ভবিষ্য তহবিল, বীমা ও অন্যান্য আইনগত সুবিধা যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে না।”
ইফতেভার কামাল বলেন, শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময়ের জন্য আইনানুগ পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
‘বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়ন’র সভাপতি আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, সংগঠনের সাবেক সভাপতি বিকাশ বসু।
মানববন্ধনে বক্তারা বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের জন্য অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, অভিজ্ঞ এইড নার্স ও টেকনিশিয়ানদের চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান, কন্ট্রাক্টর ও আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল এবং শ্রম আইন ও শ্রমবিধি অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা লাল পতাকা মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককের মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন-