Published : 19 Aug 2025, 04:07 PM
সিএমপি কমিশনারের বেতার বার্তা ‘ফাঁসের’ ঘটনায় গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম এস এম আলাউদ্দীন মঙ্গলবার রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে এই আদেশ দেন।
খুলশী থানার বেতার কন্সটেবল পদে কর্মরত অমি দাশকে (৩১) রোববার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ডিউটিতে না যাওয়ার নির্দেশনা সংক্রান্ত সিএমপি কমিশনারের ওয়াকিটকিতে দেয়া বার্তা 'ফাঁসের' অভিযোগে তাকে আটকের কথা তখন জানিয়েছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তারা।
পরে সিএমপি কমিশনারের বেতার বার্তা ‘বিনা অনুমতিতে’ ভিডিও রেকর্ড করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে অমি দাশের বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এর ৩ (খ) ধারায় এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২৩ (২)/২৭ ধারায় মামলা করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অমি দাশকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।”
শুনানিতে অমি দাশ উপস্থিত ছিলেন। তার পক্ষে আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন।
গত ১১ অগাস্ট রাতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের খবর পেয়ে নগরীর বন্দর থানার ইশান মিস্ত্রি ঘাট এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। এসময় আবু সাঈদ রানা নামে এক এসআইকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা।
ওই ঘটনার পরদিন ১২ অগাস্ট রাতে এক বেতার বার্তায় সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ অস্ত্র, গোলাবারুদ ছাড়া কাউকে ডিউটি করতে না যাওয়ার নির্দেশনা দেন। পুলিশের সামনে কোনো অস্ত্র বের করা হলে ‘সাথে সাথে গুলি করার’ নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
ওই বেতার বার্তায় সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজকে বলতে শোনা যায়, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের আগের নিয়ম অনুযায়ী লাইভ অ্যামিউনেশন ছাড়া কোন পার্টি থানা থেকে আউট হবে না। রাবার বুলেট দিয়ে কাজ হবে না। আই রিপিট এগেইন রাবার বুলেট দিয়ে কাজ হচ্ছে না।”
বন্দর থানা পুলিশের সদস্য আহত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “ওই পরিস্থিতিতে পরলে দুই চারটা লাশ ছাড়া যেন কোন মোবাইল পার্টি ফেরত না আসে।”
পুলিশ কমিশনার বলেন, “সোজা কথা কোনো টহল পার্টির সামনে অস্ত্র বের করা মাত্র, আই রিপিট অস্ত্র বের করা মাত্র, সেটা আগ্নেয়াস্ত্র হতে পারে, ধারালো অস্ত্র হতে পারে। পুলিশ পার্টির সামনে অস্ত্র বের করা হলে গুলি হবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই।
দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অস্ত্র বের করা মাত্র গুলি হবে। মাথায়, বুকে, পিঠে করবে। সরকারি গুলির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”
সিএমপি কমিশনারের ওই বেতার বার্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
গেল বছর জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন দমনে নির্বিচার অস্ত্র ব্যবহার করে ভাবমূর্তির সংকটে থাকা পুলিশ বাহিনীকে আর কোনো মারণাস্ত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্প্রতি জানায় সরকার।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গত ১২ মে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশের হাতে যেন আর কোনো মারণাস্ত্র না থাকে, এগুলো তাদের জমা দিয়ে দিতে হবে। কোনো মারণাস্ত্র আর অস্ত্র পুলিশের হাতে থাকবে না। কিন্তু আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) হাতে থাকবে।”
পুরনো খবর
সিএমপি কমিশনারের বেতার বার্তা 'ফাঁস': ওয়্যারলেস অপারেটর গ্রেপ্তার