Published : 05 Oct 2025, 03:30 PM
জাল নোট দিয়ে মোবাইল কেনার দায়ে চট্টগ্রামে এক ব্যক্তিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রোববার এ রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের অষ্টম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিরাজাম মুনীরা।
দণ্ডিত মহিউদ্দিন আল আজাদ ওরফে মহিন খান (৩১) কক্সবাজারের পেকুয়া থানার বকশিয়া ঘোনা গ্রামের মৃত শামসুল আলমের সন্তান। তিনি নগরীর বন্দর থানার অধীন মুনির নগর ওয়ার্ডের আদর্শ পাড়ায় থাকতেন।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দণ্ডবিধি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় জাল নোটের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।”
আসামি মহিউদ্দিন জামিনে গিয়ে পলাতক হয় বলেও জানান বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার আরেক আসামি জাকির শেখকে খালাস দিয়েছে আদালত। দণ্ডিত মহিউদ্দিন দাবি করেছিলেন, তিনি জাকির শেখের কাছ থেকে জাল টাকা কেনেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফাহিম মোরশেদ নামে চট্টগ্রাম নগরীর বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রোপলিটন স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশে আসেন।
ফাহিম তার কাছে থাকা স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট-২০ আলট্রা মডেলের মোবাইল সেট বিক্রির জন্য নিজের ফেইসবুকে পোস্ট দেন।
মহিউদ্দিন মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে ফাহিমের মোবাইল নম্বর নেন এবং ফোন করে মোবাইল সেটটি কিনবে বলে জানান। ৭৮ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইলটি কেনার কথা বলে ফাহিমকে নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় ফেরদৌস টাওয়ারের নিচে আসতে বলা হয়।
২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সেখানে ফাহিম ও তার মামা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন যান। সেখানে এসে মহিউদ্দিন এক হাজার টাকার ৭৮টি নোট দেন মোবাইল সেটের দাম বাবদ।
পরে টাকাগুলো জাল নোট বুঝতে পেরে ফাহিমের মামা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন।
২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় আদালত। মামলায় ছয় জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রোববার আদালত এই রায় দেন।