Published : 11 Jul 2025, 09:34 PM
দেশে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনের একটি অংশ ‘আইএমইআই নম্বর’ পাল্টে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার করা হয় বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন সেটসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ শুক্রবার এ তথ্য জানায়।
বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর কোতোয়ালি থানার নন্দনকানন হরিশ দত্ত লেইন এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ৩৪২টি মোবাইল ফোন, ছয়টি ল্যাপটপ এবং নগদ টাকা জব্দ করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. তানভির হাসনাইন (৩২), সোহেল উদ্দিন (৩২), মো. রুবেল ওরফে চাকমা রুবেল (৩৬), মো. মোহাম্মদ হোসাইন (২২), আবদুল্লাহ আল মামুন (২৭)।
তাদের মধ্যে চাকমা রুবেল পেশাদার ছিনতাইকারী বলে পুলিশের ভাষ্য।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উদ্ধার করা মোবাইল ফোন সেটগুলো নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছিনতাই ও চুরি করা। যে বাসা থেকে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে, সে বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল মোবাইলের আইএমইআই (ইন্টান্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর পাল্টানো এবং ছোটখাট মেরামত কাজের জন্য।
“গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, এসব মোবাইল ফোন সেটের আইএমইআই পাল্টে এবং ছোটখাট মেরামত করে নতুন করে প্যাকেট করা হয়। পরে সেগুলো বিভিন্ন জেলা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়। চুরি ছিনতাইয়ের এসব মোবাইল ফোন সেটের একটি অংশ চলে যায় পাশ্ববর্তী মিয়ানমার, ভারত ও নেপালে।”
চক্রে যার যে কাজ
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এ চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন জন বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত। তাদের মধ্যে রুবেল ছিনতাইকারী, তানভীর মোবাইলের কারিগর।
হোসাইন ও মামুন ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে মোবাইল সংগ্রহ করতেন এবং সোহেল সেখানে অর্থ লগ্নি করতেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
উপ-কমিশনার মাহবুব বলেন, “রুবেল ছাড়াও বিভিন্ন ছিনতাইকারীদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন হোসাইন ও মামুন। তারা ছিনতাই হওয়া দামি মোবাইলগুলো কম দামে সংগ্রহ করতেন। আর সেখানে অর্থের সংস্থান করতেন সোহেল।”
সংগ্রহ করা এসব মোবাইলের আইএমইআই নম্বর তানভীরের মাধ্যমে পাল্টে ফেলা হত বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাহবুব বলেন, এ চক্রের সঙ্গে ‘বিভিন্ন এলাকার লোকজনের’ যোগাযোগ আছে।যেখানে লাভজনক হয়, সেখানে তারা এসব মোবাইল ফোন সেট বিক্রি করত।
“এর একটি বড় অংশ চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন জেলায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পাশ্ববর্তী দেশে পাঠানো হয়।”