Published : 31 Mar 2026, 10:04 PM
‘কে ঘোষক, আর কে ঘোষক না’- এ নিয়ে ‘টানাটানি’ করে রাজনীতিবিদরা নিজেদের অবস্থানকে খাটো করছেন বলে মনে করছেন বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান।
মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিমনেসিয়াম মাঠে স্বাধীনতা বইমেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক মাহফুজুর বলেন, “বাস্তবতা হলো ইতিহাস সবসময় সরকারি দল তার পক্ষে নিতে চায়। ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। আমরা তার ঊর্ধ্বে নাই। রাজনীতিবিদরা মানুষের জন্য রাজনীতি করবে। বর্তমান সময়ের কী সমস্যা, সেটার স্থায়ী সমাধান কীভাবে করা যায় এটা নিয়ে। ইতিহাসকে ইতিহাসবিদদের উপর ছেড়ে দিতে হবে।
“তা না করে, ৫৪ বছর পর্যন্ত এখনো এখনো ইতিহাসে কে ঘোষক আর কে ঘোষক না, এগুলো নিয়ে টানাটানি করছেন? এটা করে নিজেদের অবস্থানকে খাটো করছে। যাক, বেশি ক্রুড কথা বলার জায়গা এটা না।”
তিনি বলেন, “ইতিহাস জানতে হলে বই পড়ার দরকার নেই। আপনার দাদা-দাদি, নানা-নানী অথবা যার বয়স ৭০ বছর বা ৬৬-৬৭ বছর তাকে জিজ্ঞেস করবেন, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে উনি কী করেছিলেন? আপনি ওখানেই সঠিক ইতিহাসটি পাবেন। ওই লোক বলে দেবে, একাত্তর সালে পাঞ্জাবিরা কী করেছিল এবং ওই লোক কী করেছিলেন। এমন কোনো ব্যক্তি পাবেন না, যে ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রেখেছেন। একমাত্র নামকরা আলবদর রাজাকার ছাড়া। এটা একটা জনযুদ্ধ ছিল।
“জনযুদ্ধের ইতিহাস লেখাটা অত্যন্ত কঠিন। আমরা চেষ্টা করছি একেবারেই ব্যক্তি উদ্যোগে বা সামষ্টিক উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে টেনে নিয়ে আসতে।”
মুক্তিযুদ্ধের এ গবেষক বলেন, “আরে ইতিহাসতো লেখা শুরুই হয় নাই এখনো। ১০০ বছর পর যে প্রজন্ম আসবে তারা আমাদের দলিলগুলো সামনে রাখবে। সামনে রেখে তারা সঠিক ইতিহাসটি রচনা করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ”

অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা নৈতিক দায়িত্ব। পাহাড়তলী বধ্যভূমিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রকৃত শহীদদের তালিকা প্রণয়নে সহযোগিতাও চান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা।
সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু।
এদিন বিকালে মেলা উদ্বোধন হলেও সব স্টল এখনও চালু হয়নি। হাতে গোনা কয়েকটি প্রকাশনা তাদের স্টল সজ্জা শেষ করেছে। বেশির ভাগ স্টল গোছানোর কাজ করছিল।