০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

টাকা আত্মসাতে ‘ছিনতাই-নাটক’ সাজিয়ে ধরা

মালিকের ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের পর ‘ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের’ নাটক সাজাতে গিয়ে চট্টগ্রামে ধরা পড়েছেন স্বর্ণের দোকানের এক কর্মচারী।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jul 2021, 04:13 PM

Updated : 02 Aug 2022, 06:03 PM

সুদীপ্ত সাহা টিংকু (৩৫) নামে এ দোকান কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার রাতে তার বোনের বাসা থেকে টাকাও উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সুদীপ্ত সাহা তার মালিকের ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা তুলে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে আত্মসাতের চেষ্টা করে।

“কিন্তু সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তার সব পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়। পরে পুলিশের কাছে স্বীকার করে টাকা আত্মসাতের কথা, পুলিশ উদ্ধার করে সেই টাকা।”

সুদীপ্ত আগ্রাবাদ আখতারুজ্জামান সেন্টারের ‘দি সন্দ্বীপ জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণের দোকানে চাকরি করতেন। ‘বিশ্বস্ত’ কর্মচারি সুদীপ্ত জুয়েলার্সের মালিক প্রদীপ বণিকের এটিএম কার্ডের পিন নম্বরসহ আর্থিক বিষয়গুলো জানতেন।

প্রদীপ বৃহস্পতিবার রাতে সুদীপ্তকে তার চারটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড দিয়ে ১২ লাখ টাকা তুলে আনতে বলেন।

শুক্রবার সকালে আগ্রাবাদ সিঅ্যান্ডএফ ভবনের নিচ তলার বুথ থেকে টাকা তুললেও দুপুরের পরও সুদীপ্ত ফিরে না আসায় মালিক তাকে ফোন করে মোবাইল বন্ধ পান। পরে বেলা ৪টার দিকে সুদীপ্ত তার মালিককে ফোন করে বলেন যে টাকা ছিনতাই হয়েছে। বুথের সামনে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়।   

সুদীপ্তর কাছ থেকে ঘটনা শুনে জুয়েলার্স মালিক প্রদীপ বণিক থানায় এসে অভিযোগ করেন।

ওসি বলেন, “আমরা সাথে সাথে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করি। বুথের সামনে মাইক্রোবাস দেখা গেলেও সেখানে সুদীপ্তকে তুলে নেওয়ার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। এতে আমরা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায় এবং সুদীপ্তর দিকে সন্দেহের মোড় নেয়।

“রাতেই বান্দরবান থেকে সুদীপ্তকে পুলিশ ডবলমুরিং থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে যে টাকা আত্মসাৎ করে ছিনতাইয়ের নাটক সাজাতে সে বান্দরবান চলে যায়।”

এ ঘটনায় জুয়েলার্সের মালিক প্রদীপ বণিক বাদী হয়ে সুদীপ্তর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানান ওসি মহসিন।