ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা সাময়িক বরখাস্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের এই আহ্বায়কের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জুলাই ‘অভ্যুত্থান বিরোধী অবস্থান’ ও কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগের পর তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অধ্যাপক জিনাত হুদা আওয়ামী লীগপন্থি নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান বিরোধী ভূমিকার কারণে এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির সুপারিশের সাপেক্ষে অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সিন্ডিকেট সভায় ‘ট্রাইব্যুনাল গঠন’ করার কথাও বলেছেন উপ-উপাচার্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিনাত হুদা এর আগে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।
চব্বিশের আন্দোলনের পর তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে ‘অশিক্ষকসুলভ আচরণ’, ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের’ অভিযোগে ৩০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সিন্ডিকেট।
ওই দিন সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করা নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলীকে।
অপরদিকে ২৩ জুন আরও তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজনকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেটের এ সভায় জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
এছাড়া সেদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত আরেক শিক্ষক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমালোচনা হয়েছিল।
